ওয়ার্ল্ড ইসলামিক সায়েন্স রিভিউ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি :

                       মুহাম্মাদ শেখ রমজান হোসেন

গবেষণা এবং আল কুরআন

চিন্তা-ভাবনা-গবেষণার প্রতি উৎসাহিত করে মহান আল্লাহ তায়া'লা পবিত্র কুরআনে ফরমান:

٢٩- كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِّيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ  

মি আপনার নিকট বরকতময় কিতাব (আল কুরআন) নাযিল করেছিযাতে করে তার আয়াতসমূহ নিয়ে তারা গবেষণা করে।” (সূরাহ ছা-দ: ২৯)

٨٢- أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ ۚ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللَّـهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا 

فَلَا তারা কি কুরআন সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে নাউহা যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট হতে আসত তবে তারা তাতে অনেক মতপার্থক্য পেত।” (নিসা- ৮২)

٠- لَوْ أَنزَلْنَا هَـٰذَا الْقُرْآنَ عَلَىٰ جَبَلٍ لَّرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُّتَصَدِّعًا مِّنْ خَشْيَةِ اللَّـهِ ۚ وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ

আমরা যদি এ কোরআনকে পাহাড়ের উপর নাজিল করতাম তাহলে তুমি উহাকে দেখতে আল্লাহর ভয়ে উহা চুর্ণ বিচুর্ণ হয়ে গেছে। আমি মানুষের জন্য এসব দৃষ্টান্ত দিয়েছি যেন তারা চিন্তা ভাবনা করতে পারে (সূরাহ  হাশর) ।

H We sent down This Qur-ān on a mountain, Verily, thou would have seen It humble itself and cleave Asunder for fear of Allah. Such are the similitudes Which We propound to men, That they may reflect.(https://quranyusufali.com/59/ ) 

আল কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণার গুরুত্ব

٢٤- أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا  

أَفَلَতারা কি কুরআন নিয়ে গবেষণা করে নানাকি তাদের অন্তরে তালা মেরে দেয়া হয়েছে?” (সূরা মুহাম্মাদ- ২৪)    


٤٦- أَفَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَتَكُونَ لَهُمْ قُلُوبٌ يَعْقِلُونَ بِهَا أَوْ آذَانٌ يَسْمَعُونَ بِهَا فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى الْأَبْصَارُ وَلَـٰكِنْ تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ

 তারা কি ভূপৃষ্ঠে ভ্রমণ করে নাযাতে তারা জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন হৃদয় ও শ্রুতিসম্পন্ন শ্রবণের অধিকারী হতে পারে! বস্তুত চক্ষু তো অন্ধ নয়বরং অন্ধ হচ্ছে তাদের হৃদয়।’ (সূরা হজ : ৪৬)  

- أَفَلَا يَنظُرُونَ إِلَى الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ

- وَإِلَى الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ

- فَذَكِّرْ إِنَّمَا أَنتَ مُذَكِّرٌ
.
1তারা কি তারা লক্ষ্য করে না উটের প্রতিকীভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আকাশের প্রতিকীভাবে তাকে উঁচু করা হয়েছে এবং পাহাড়সমূহের প্রতিকীভাবে তাকে প্রথিত করা হয়েছে এবং ভূমির প্রতিকীভাবে তা বিছানো হয়েছে। (সূরা গাশিয়া ১৭-২০) 
0
١٩٠- إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ

- الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّـهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَـٰذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

ি নিশ্চয় মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টিতে এবং দিবা-রাত্রির আবর্তনের মধ্যে বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। যারা দাঁড়িয়েবসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং বলেহে আমাদের প্রতিপালক! এ সবকিছু তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সব পবিত্রতা একমাত্র তোমারই। আমাদের তুমি দোজখের শাস্তি হতে বাঁচাও। (সূরা আল-ইমরান ১৯০-৯১) 

ইসলামের সত্যতা নিরূপণে এবং ঈমানের পরিপক্বতা অর্জনে পবিত্র কোরআন নিয়ে অব্যাহত চিন্তাভাবনা-গবেষণার বিকল্প নেই। আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার জন্য মানবকুলকে আহ্বান জানিয়েছেন। ঙ) 

গবেষণা ও চিন্তাচর্চায় আল কোরআনের অনুপ্রেরণা 

সূরা সূরা আনফালে বলা হয়েছে: আর তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না,যারা বলে যেআমরা শুনেছি,অথচ তারা শোনে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলার নিকট সমস্ত প্রাণীর তুলনায় তারাই মূক ও বধির,যারা উপলব্ধি করে না।’(সূরা আনফাল : ২১২২)

আআল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে নবী! বলে দাওআসমান ও জমিনে যা কিছু আছেতার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করো।’ (সূরা ইউনুসআয়াত ১০১) 

প্রকৃসৃষ্টিতত্ত্ব নিয়েমহাজাগতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভেবে না দেখাকে আল্লাহ তায়ালা তিরস্কার করেছেন। কোরআনের ঘোষণা- 'তারা কি নিজেদের অন্তরে ভেবে দেখে নাআল্লাহ আসমান ও জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুই যথাযথভাবে ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন। (সূরা রুমআয়াত ৮) 

[তাতফসিরে মা'আরেফুল কোরআন ও ইবনে কাছির অবলম্বনে] 

كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ-   

 “এএটি এক কল্যাণময় কিতাবযা আমরা তোমার প্রতি নাযিল করেছি। যাতে তারা এর আয়াতসমূহ অনুধাবন করে এবং জ্ঞানীরা উপদেশ গ্রহণ করে (ছোয়াদ ৩৮/২৯)

َفَلاَ يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلاَفًا كَثِيرًا-

তারা কেন কুরআন নিয়ে গবেষণা করে নাযদি এটা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারু নিকট থেকে আসততাহলে তারা এর মধ্যে বহু গরমিল দেখতে পেত (নিসা ৪/৮২) 

যায যারা  কুরআন নিয়ে গবেষণা করেনাতাদের প্রতি ধমক দিয়ে আল্লাহ বলেন,أَفَلاَ يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا- ‘তবে কি তারা কুরআনকে গভীরভাবে অনুধাবন করে নানাকি তাদের হৃদয়গুলি তালাবদ্ধ?’ (মুহাম্মাদ ৪৭/২৪)

ইবনু আব্বাস (রা:) এর জন্য রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দুআ: 

اللهم فقه في الدين وعلمه التأويل(( (رواه أحمد و ابن أبي شيبة وابن سعد والحاكم والطبراني في الكبير

 হে আল্লাহ তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান কর এবং তাবীল তথা কুরআনের তাফসীর শিক্ষা দান কর।” (আহমাদইবনু আবী শায়বাহ,ইবনু সা,হাকেম ও ত্বাবরানী কাবীর গ্রন্থে।) 

জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নের ক্ষেত্রে আকল বা বিচার-বুদ্ধি ও ফিকর বা চিন্তা-চেতনার গুরুত্ব অত্যধিক। মানুষ যদি আল্লাহর সৃষ্টির এই নিদর্শন সম্পর্কে চিন্তা করে তাহলে বুঝতে পারবে যেগোটা বিশ্ব সৃষ্টি এমনিতেই হয়নি। এর পিছনে এক বিরাট উদ্দেশ্য আছে এবং সবকিছুই একটি পরম পরিণতির দিকে যাচ্ছে। একসময় তাকে আল্লাহর সামনে হাযির হয়ে জবাব দিতেই হবে। যা মানুষকে আল্লাহমুখী করে। এজন্যই আল্লাহ কুরআনে ৪৯ বার আকল’ ও ১৮ বার ফিকর’ উল্লেখ করেছেন। এ সম্পর্কে আল-কুরআনের নির্দেশনা এসেছে

 أَوَلَمْ يَتَفَكَّرُوا فِي أَنفُسِهِم ۗ مَّا خَلَقَ اللَّـهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا إِلَّا بِالْحَقِّ وَأَجَلٍ مُّسَمًّى ۗ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ بِلِقَاءِ رَبِّهِمْ لَكَافِرُونَ

তারা কি তাদের অন্তরে ভেবে দেখে না যেআল্লাহ নভোমন্ডলভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সৃষ্টি করেছেন সত্য সহকারে এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্যকিন্তু অনেক মানুষ তাদের পালনকর্তার সাথে সাক্ষাতে অবিশ্বাসী’ (রূম ৩০/)

এছাড়াও আল্লাহ তাঁর নিদর্শনসমূহ দেখতে সারাবিশ্ব পরিভ্রমণের নির্দেশ দিয়ে বলেন,  - قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ بَدَأَ الْخَلْقَ ۚ ثُمَّ اللَّـهُ يُنشِئُ النَّشْأَةَ الْآخِرَةَ ۚ إِنَّ اللَّـهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

বলতোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর। অতঃপর দেখ কিভাবে তিনি সৃষ্টিকর্ম শুরু করেছেন। অতঃপর আল্লাহ পরবর্তী সৃষ্টি করবেন’ (আনকাবূত ২৯/২০)

মানব পবিত্র কোরআনে ২১ ধরনের পানির কথা উল্লেখ আছে। আমরা এ প্রবন্ধের মাধ্যমে পানির প্রকারভেদ ও মহান রবের সৃষ্টির মহিমা উপলব্ধির চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ। ১. মাউল মুগিজ : এটি এমন পানি, যা আসমান থেকে বর্ষিত হয়ে মাটির ভেতর বিলীন হয়ে যায়। কোরআনের ভাষায়, ‘হে পৃথিবী, তোমার পানি গিলে ফেলো আর হে আকাশ, ক্ষান্ত হও। ’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৪৪) ২. সাদিদ : এটি জাহান্নামের অধিবাসীদের খাবারের পানি। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের পেছনে আছে জাহান্নাম। তথায় পুঁজ মেশানো পানি পান করানো হবে।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ১৬) ৩. মাউল মুহলি : এটি গাঢ়, ঘোলা পানি অথবা তৈলাক্ত পানিকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তারা পানীয় প্রার্থনা করে, তাহলে তাদের পুঁজের মতো পানীয় দেওয়া হবে, যা তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে।’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ২৯) ৪. মাউল আরদ্বি : জমিনে সংরক্ষিত পানি। আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে এ পানি সৃষ্টি করেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা নির্দিষ্ট ভূমিকায় থাকবে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে থাকি পরিমাণমতো, অতঃপর আমি জমিনে সংরক্ষণ করি এবং আমি তা অপসারণ করতে সক্ষম। ’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ১৮) ৫. ত্বহুর : এমন পরিচ্ছন্ন পানি, যা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা হয়। আল্লাহ বলেন, ‘আমি আসমান থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য পানি বর্ষণ করি।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৪৮) ৬. শরাব : পানযোগ্য সুপেয় পানি। আল্লাহ বলেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন। এই পানি থেকে তোমরা পান করো। ’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১০) ৭. উজাজ : তথা নোনা পানি। আল্লাহ বলেন, ‘দুটি সমুদ্র সমান হয় না। একটি মিঠা ও তৃষ্ণা নিবারক এবং অপরটি নোনা।’ (সুরা : ফাতির, আয়াত : ১২) আরো বলেন, ‘আমি ইচ্ছা করলে তাকে নোনা করে দিতে পারি, তবু তোমরা কেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো না?’ (সুরা : ওয়াকিয়া, আয়াত : ৭০) ৮. মাহিন : মাহিন মানে তুচ্ছ। আল্লাহর বাণী, ‘অতঃপর তিনি তার বংশধর সৃষ্টি করেন তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে।’ (সুরা : সাজদা, আয়াত : ৮) ৯. গাইরু আসিন : আল্লাহ জান্নাতিদের যে পানি দান করবেন সেই পানির রং, স্বাদ কিংবা গন্ধ বিস্বাদযুক্ত হবে না। আল্লাহ বলেন, ‘তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর, যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়।’ (সুরা : মুহাম্মাদ, আয়াত : ১৫) ১০. হামিম : যা উত্তপ্ত পানি। ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের ফুটন্ত পানি পান করতে দেওয়া হবে, অতঃপর সে পানি তাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেবে।’ (সুুরা : মুহাম্মাদ, আয়াত : ১৫) ১১. মোবারক : বরকতপূর্ণ পানি, যার মাধ্যমে জমিনকে পুনর্জীবিত করা হয় এবং জমিন সবুজ-শ্যামল পরিবেশ আমাদের দান করে। কোরআনের ভাষায়, ‘আমি আসমান থেকে কল্যাণময় বৃষ্টি বর্ষণ করি এবং তা দ্বারা বাগান ও শস্য উদগত করি, যেগুলোর ফসল আহরণ করা হয়।’ (সুরা : ক্বফ, আয়াত : ৯) ১২. মুনহামির : আসমান থেকে আল্লাহ কখনো কখনো প্রবল বর্ষণ করেন। যেমন তিনি বলেন, ‘আমি খুলে দিলাম আকাশের দ্বার প্রবল বারি বর্ষণের মাধ্যমে।’ (সুরা : ক্বমার, আয়াত : ১১) ১৩. মাসকুব : মাসকুব বলা হয় প্রবাহিত পানিকে। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আমি প্রবাহিত পানি দান করি।’ (সুরা : ওয়াকিয়া, আয়াত : ৩১) ১৪. গাওর : যে পানি ভূগর্ভে চলে যায় এবং সংগ্রহ করা যায় না। কোরআনের ভাষায়, ‘অথবা সকালে তার (মাটির) পানি শুকিয়ে যাবে। অতঃপর তোমরা তা তালাশ করে আনতে পারবে না।’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ৪১) ১৫. মাঈন : যে পানি জমিনে প্রবাহিত হয় এবং মানুষ তা দ্বারা উপকৃত হয়। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের গভীরে চলে যায় তবে কে তোমাদের সরবরাহ করবে পানির স্রোতধারা?’ (সুরা : মুলক, আয়াত : ২৯) ১৬. গাদাক : প্রচুর পানিকে গাদাক বলা হয়। আল্লাহর বাণী, ‘যদি তারা সত্য পথে প্রতিষ্ঠিত থাকত, তবে আমি তাদেরকে প্রচুর পানি বর্ষণে সিক্ত করতাম।’ (সুরা : জিন, আয়াত : ১৬) ১৭. ফুরাত : সুমিষ্ট পানি। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আমি তাতে স্থাপন করেছি মজবুত সুউচ্চ পর্বতমালা এবং পান করিয়েছি তোমাদের তৃষ্ণা নিবারণকারী সুপেয় পানি।’ (সুরা : মুরসালাত, আয়াত : ২৭) ১৮. ছাজ্জাজ : তথা মুষলধারে বর্ষিত পানি। কোরআনের বাণী, ‘আমি জলধর মেঘমালা থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত করি।’ (সুরা : নাবা, আয়াত : ১৪) ১৯. দাফিক্ব : সবেগে স্খলিত পানি। কোরআনের ভাষায়, ‘সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে।’ (সুরা : ত্বরিক, আয়াত : ৬) ২০. আনহার ওয়াল ইয়ানাবি : তথা নদী ও ঝরনার পানি। আল্লাহর বাণী, ‘আপনি কি দেখেননি যে আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর সে পানি জমিনের ঝরনাসমূহে প্রবাহিত করেছেন?’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ২১) ২১. সালসাবিল : এ পানি অত্যন্ত মসৃণ এবং মিষ্টতার কারণে গলা দিয়ে যাওয়া সহজ। এটি জান্নাতে ‘সালসাবিল’ নামক ঝরনা থেকে উৎপন্ন হয়। আল্লাহ বলেন, ‘এটি জান্নাতস্থিত সালসাবিল নামক একটি ঝরনা।’ (সুরা : দাহর, আয়াত : ১৮) আল্লাহ আমাদের জান্নাতের সালসাবিল পান করার তাওফিক দান করুন। লেখক : ডক্টর মুহিব উল্লাহ, শিক্ষক, প্যারামাউন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজশাহী। সৃষ্টিতত্ত্ব এবং আল কুরআন

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, 

 هُوَ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ يُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ ثُمَّ لِتَكُونُوا شُيُوخًا ۚ وَمِنكُم مَّن يُتَوَفَّىٰ مِن قَبْلُ ۖ وَلِتَبْلُغُوا أَجَلًا مُّسَمًّى وَلَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ

তিনিই সেই সত্ত্বা যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে। অতঃপর শুক্রবিন্দু হতেঅতঃপর জমাট রক্ত হতেঅতঃপর তোমাদেরকে বের করে দেন শিশুরূপে। অতঃপর তোমরা পৌঁছে যাও যৌবনে। অতঃপর বার্ধক্যে। তোমাদের কারু কারু এর পূর্বেই মৃত্যু ঘটে এবং কেউ কেউ নির্ধারিত আয়ুষ্কাল পর্যন্ত পৌঁছে যাও। যাতে তোমরা অনুধাবন কর।’ (গাফির/মুমিন ৪০/৬৭)


যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে অনস্তিত্ব হতে অস্তিত্বে আনায়ন করেন এবং যখন তিনি কিছু করবার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন শুধু বলেন হও, আর তা হয়ে যায়। (০২ : ১১৭)


শিশু মহাবিশ্ব এবং এর বেড়ে ওঠার গল্পঃ

শিশু মহাবিশ্বের একেবারে শুরুর ধাপটিকে বলা হয়ে থাকে প্ল্যাঙ্কের সময় (Plank Epoch)। সে সময় প্রকৃতির চারটি মৌলিক বল- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল, উইক নিউক্লিয়ার ইন্টার‍্যাকশন, এবং সবল নিউক্লিয়ার ইন্টার‍্যাকশ্যান একীভূতভাবে একটিমাত্র বল হিসেবে ছিলো। যে সময়টুকু হচ্ছে 〖১০〗^(-৪৩)সেকেন্ড। 〖১০〗^(-১২) সেকেন্ড পর এই চারটি মৌলিক বল আলাদা হয়ে যায়। অসীম তাপমাত্রাসম্পন্ন এবং ঘনত্বসম্পন্ন মহাবিশ্বের তাপমাত্রা এবং ঘনত্ব যত কমতে শুরু করে ততই পরিবর্তিত হতে থাকে মহাবিশ্বের স্বরূপ।। 〖১০〗^(-৬) সেকেন্ড পরেই সৃষ্টি হয় প্রোটন এবং নিউট্রন!

বিগ-ব্যাং তত্ত্বঃ

“সত্য প্রত্যাখানকারীরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলি ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে; অত:পর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম” (আম্বিয়া:৩০)



“আমি আকাশ নির্মান করিয়াছি আমার ক্ষমতাবলে এবং আমি অবশ্যই মহা-সম্প্রসারণকারী” (সূরা জারিয়াত : ৪৭)


 

“অত:পর তিনি আকাশের দিকে মনযোগ দিলেন যা ছিল ধুমৃকুঞ্জ (smoke ), অত:পর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন তোমরা উভয়ে আসো ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বল্য স্বেচ্ছায় আসলাম।” (সূরা হামিম আস সিজদাহ : ১১)

আকাশ, যা পথ ও কক্ষপথ দ্বারা পরিপূর্ণ”(সূরা জারিয়াত:৭)

“তিনিই একজন যিনি দিন ও রাত সৃষ্টি করেছেন, সুর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন, প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ কক্ষপথে পরিভ্রমন করছে। (সূরা আম্বিয়া:৩৩)

আকাশকে আমি এমনভাবে গুটিয়ে ফেলবো যেমন বাণ্ডিলের মধ্যে গুটিয়ে রাখা হয় লিখিত কাগজ, যেভাবে আমি প্রথমে সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম ঠিক তেমনিভাবে আবার তার পুনরাবৃত্তি করবো, এ একটি প্রতিশ্রুতি, যা আমার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্তএবং এ কাজ আমাকে অবশ্যই করতে হবে। ( ২১:১০৪)

ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্বের পথে আধুনিক বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

ইসলামী সৃষ্টি তত্ত্বের ইতিকথাঃ

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

ইন্নামা-আমরুহূ-ইযা-আরা-দা শাইআন্ আইঁ ইয়াকূলা লাহু কুন্ ফাইয়াকূন”অর্থঃ “তিনি যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলে দেন ‘হও’ তখনই তা হয়ে যায়” । (সূরা ইয়া-সী-ন : আয়াত“তিনিই সঠিকভাবে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আনআ’মঃ আয়াত ৭৩)।

“বিশ্ব বলিতে পূর্বে কিছুই ছিলনা”। (ফাতওয়ায়ে সিদ্দিকীন, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠাঃ ৭৪, কুরআন হাদীস রিসার্চ সেন্টার (ফুরফুরা দরবারের গবেষণা প্রতিষ্ঠান), প্রকাশনায়ঃ ইশায়াতে ইসলাম, কুতুবখানা, মার্কাজে ইশায়াতে ইসলাম, ২/২, দারুস সালাম, মীরপুর, ঢাকা-১২১৬), প্রকাশকালঃ সাবান-১৪২০হিজরি, নভেম্বর ১৯৯৯ ঈসায়ী “গোটা সৃষ্টিকূলের মধ্যে আল্লাহ তাআলার কুন ফা ইয়া কুনের তাজাল্লীই বিরাজমান” (প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৮)।

“আসমান-যমীন, আরশ কুরসী লাওহ-কলম, গাছ পালা, বৃক্ষ লতা, এক কথায় দৃশ্যমান ও অদৃশ্য যত কিছু রয়েছে “সব কিছুই সৃষ্টি করেছেন মহান আল্লাহ” (প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৩)। “আল্লাহ তায়ালা সমস্ত বস্তুকে পূর্ব উপাদান ব্যতীত সৃষ্টি করেছেন” (প্রাগুক্ত পৃঃ ১৬২(আল্লাহপাক) “বিশেষ মুছলেহাতের কারণে প্রথমে বিনা উপাদানে উপকরণে সৃষ্টি করে, সেই সব উপাদানের মাধ্যমে বিভিন্ন বস্তু সৃষ্টি করার ব্যবস্থা চালু করেছেন”(সূত্রঃ ফাতাওয়ায়ে সিদ্দিকীন, ১-৪ খন্ড, পৃষ্ঠা ১৬৩)উল্লেখ্য, এক সময় কেবলই আল্লাহ (ﺎﻠﻠﻪ) আর আল্লাহ-ই ছিলেন। মহান আল্লাহ ব্যতিত সৃষ্টি (ﻣﺨﻟﻖ) সত্বার কোন অস্তিত্ব কখনই ছিল না। কোন এক মহাসন্ধিক্ষণে আল্লাহপাক তাঁর কুদরতি এক মহাপরিকল্পনার (Master Plan) অধীনে ‘কুন’ হয়ে যাও‘’- এই কুদরতি আদেশ বা হুকুমবলে সম্পূর্ণ ‘নাই’ (Nil/Zero) থেকে কোন প্রকার জাগতিক তত্ত্ব, তথ্য, উপাত্ত, সূত্র, আইন-কানুন, বিধি-বিধান থেকে সম্পূর্ণ পুতঃপবিত্র (সুবহান) এবং অনির্ভরশীল(স্বমাদ) হয়ে সৃষ্টি করলেন এক মহাসৃষ্টি সত্বা (Great Creation) বা ﻣﺨﻟﻖ)-যাতে সম্মিলিতভাবে (Combined) নিহিত ছিল আকাশ/মহাকাশ[(ﺍﻠﺴﺎﻮﺍﺕ)( (Sky)] ও জমিন [ﻼﻠﺭﺽ Earth (পৃথিবী) আবার কোন এক বিশেষ মুহুর্তে তা পৃথক করে আজকের আসমান ও জমিন-এই দু’টি পৃথক পৃথক সত্বা সৃষ্টি করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক আল কোরআনে ফরমান, “কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অত:পর আমি উভয়কে খুলে দিলাম”। (সূরা আল-আম্বিয়ার ৩০নং আয়াত “উভয় (আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবী )-কে খুলে দিলাম”-খুলে দেয়ার এই পরম-চরম মুহুর্তটিকেই খুব সম্ভবতঃ বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বলা হচ্ছে ‘মহাবিস্ফোরণ’ (Big Bang) এবং খুলে দেয়ার পূর্ব মুহুর্তের (আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবী একত্রিত রূপ-কে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বলা হয়েছে   Highest Energetic Radia উল্লেখ্য যে, মহাবিস্ফোরণের পর আকাশমন্ডলীর এ অবস্থাকে সূরা হা-মিম-আস্- সিজদা’র ১১নং আয়াতে ‘দুখান’ নামে অভিহিত করে আল্লাহ পাক ফরমান: “অতঃপর তিনি আসমানের দিকে মনোনিবেশ করলেন, যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ (দুখান)।” (পবিত্র কোরআনুল করীমঃ তফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন, পৃষ্ঠাঃ ১২৯৪)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা নিম্নরূপ :     (১) বয়ানুল কোরআনে হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) বলেনঃ আমার মনে হয় যে, প্রথমে পৃথিবীর উপকরণ সৃজিত হয়েছে। এমতাবস্থায় ধুম্রকুঞ্জ এর আকারে আকাশের উপকরণ নির্মিত হয়েছে। এরপর পৃথিবীকে বর্তমান আকারে বিস্তৃত করা হয়েছে এবং এতে পর্বতমালা, বৃক্ষ ইত্যাদি সৃষ্টি করা হয়েছে। এরপর আকাশের তরল ধুম্রকুঞ্জ এর উপকরণকে সপ্ত আকাশে পরিণত করা হয়েছে। (পবিত্র কোরআনুল করীমঃ তফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন, পৃষ্ঠাঃ ১১ (২) পবিত্র কুরআনের মতে, বিশ্ব জগৎ আদিতে ছিল একটি বিশালকার একক পিন্ডাকৃতির বস্তু-সুক্ষ্ণাতি সুক্ষ্ণ অণু-পরমাণু বিশিষ্ট গোলক-যাকে দুখান বলা হয়েছে। এই দুখান হলো স্তর বিশিষ্ট এমন এক গ্যাস জাতীয় পদার্থ যা স্থিরভাবে ঝুলানো এবং যার মধ্যে বস্তু-সুক্ষ্ণাতি সুক্ষ্ণ অণু কণা উচ্চতর বা নিম্নতর চাপের দরুণ কখনও কঠিন, এমনকি কখনও বা তরল অবস্থায় বিদ্যমান ছিল। মহাকালের বিভিন্ন পর্যায়ে সেই মহাপিন্ডটি খন্ড বিখন্ড হয়ে তৈরী হয়েছে এক একটি নীহারিকা বা ছায়াপথ এবং সেই সব ছায়াপথ সূর্যের মত কোটি কোটি নক্ষত্র নিয়ে একটা একটা পৃথক জগৎ রূপে মহাশূণ্যে সঞ্চারমান। আদি গ্যাসীয় পিন্ডের খন্ড বিখন্ড হয়ে পড়া বিশালকার টুকরাগুলি কালক্রমে আবার একীভুত হয়ে সূর্যের মত এক একটি নক্ষত্র সৃষ্টি করেছে। ...... বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্ব সৃষ্টির আদিতে ছিল ‘নীহারিকা’ বা ‘নেবুলা’ যা মূলতঃ গ্যাসীয় ধুম্রপিন্ড এর অনুরূপ। দেখা যাচ্ছে, বিশ্ব সৃষ্টি সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের বক্তব্য আধুনিক বিজ্ঞানের আবিস্কৃত তথ্যের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।” {সূত্র: কম্পিউটার ও আল-কুরআন)। 

ﻻ ﻴﻌﺰﺐ ﻋﻨﻪ ﻣﺜﻗﺎﻞ ﺬﺭﺓ ﻓﻰ ﺍﻠﺴﻣﻮﺖ ﻮﻻ ﻓﻰ ﺍﻻﺭﺽ ﻮﻻ ﺍﺼﻐﺭﻤﻦ ﺬﻠﻚ ﻮﻻ ﺍﻜﺑﺮﺍﻻ ﻓﻰ ﻜﺘﺐ ﻤﺑﻴﻦ অর্থঃ “তিনি অদৃশ্য সম্বন্ধে পরিজ্ঞাত, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে অণু পরিমাণ কিছু কিংবা তদপেক্ষা ক্ষুদ্র অথবা বৃহৎ কিছু যাঁর অগোচর নয়; ওর প্রত্যেকটি সুস্পষ্ট গ্রন্থে লিপিবদ্ধ।” (সূরাহ্ সাবা, আয়াতঃ ৩)

“পবিত্র কুরআনের মতে, বিশ্ব জগৎ আদিতে ছিল একটি বিশালকার একক পিন্ডাকৃতির বস্তু-বস্তু-সুক্ষ্ণাতি সুক্ষ্ণ অণু পরমাণু বিশিষ্ট গোলক।”(সূত্র: কম্পিউটার ও আল-কুরআন, কুরআন-হাদিস রিসার্চ সেন্টার, ইশায়াতে ইসলাম কুতুবখানা, দারুস্ সালাম, ঢাকা)। “বিশ্ব সৃষ্টি সম্পর্কে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীগণ পরমাণুবাদের সমর্থক” (সূত্রঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদাঃ ফতেহ্ আলী মোহাম্মাদ আয়াতুল্লাহ সিদ্দিকী আল্ কোরাইশী, নেদায়ে ইসলাম, বর্ষঃ ৭৩, সংখ্যা-৬, মহররম-সফর ১৪৩

     বৈজ্ঞানিক পরমাণূবাদ

            নিউট্রিনো কি?

(بالإنجليزية: (Neutrino): “নিউট্রিনো”(Neutrino) হচ্ছে বৈদ্যুতিক চার্জবিহীন দূর্বল ও সক্রিয় এক প্রকার অতি ক্ষুদ্র পারমানবিক কণা। ধারণা করা হয়, এই ক্ষুদ্র কণা ‘অশুন্য’ (Non-Zero) ভরের কণা। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সার্ণের গবেষকরা এই নিউট্রিনো আবিস্কারের ঘোষণা করেন। বিজ্ঞানীদের দাবীঃ আবিস্কৃত নিউট্রিনো বর্তমান প্রচলিত সাধারণ আলোক কণা থেকে দ্রুত বেগ সম্পন্ন। উল্লেখ্য, বিজ্ঞানী পাউলি উপলদ্ধি করেন যে, ভরবেগ, শক্তি, কৌণিক ভরবেগ ইত্যাদি নিত্যতা বজায় রাখার জন্য ইলেকট্রনের সাথে আরেকটি খুবই হালকা, আধানহীন এবং প্রায় অদৃশ্য কণার উপস্থিতি প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় এই কণাটিরই নাম দেয়া হয় “নিউট্রিনো”। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো Model (আদর্শ) নামের একটি এই মডেল অনুসারে মৌলিক কণাগুলো প্রধানতঃ তিন প্রকার যথাঃ কোয়ার্ক, বোসন ও লেপটন। এর মধ্যে লেপটন দুই প্রকার যথাঃ ইলেকট্রন ও নিউট্রিনো। নিউট্রিনোর ধারণা প্রথম বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন পরমাণুর বেটা ক্ষয়ের বিশ্নেষণ করতে গিয়ে। নিউট্রিনো ও ইলেকট্রন প্রকৃতিতে দুই ভাইয়ের মত। তিন ধরণের ইলেকট্রনের মধ্যে রয়েছে (১) ইলেকট্রন ইলেকট্রন (অথবা শুধুই ইলেকট্রন) (২) মিউ ইলেকট্রন (মিউয়ন) এবং (৩) টাউ ইলেকট্রন (টাউয়ন) এবং এর প্রতিটি ইলেকট্রনের সাথে আছে একটি করে নিউট্রিনো যথাঃ (১) ইলেকট্রন

আলোর গতিসম্পন্ন নিউট্রিনো কণার আলোকে পবিত্র মিরাজুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

যে ভাবে নিউট্রিনো কণিকার আলোর গতি প্রমাণিত হয়

‘প্রজেক্ট অপেরা’ নামের এক বৈজ্ঞানিক প্রকল্পের অধীনে ইউরোপীয় পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র সাড়া জাগানো নিউট্রিনো আবিস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নিউট্রিনো আবিস্কারের ক্ষেত্রে গৃহীত এক পরীক্ষার প্রথম ধাপে সুইজারল্যান্ডের সিনক্রোটোন নামের একটি ভূগর্ভ যন্ত্রে প্রোটন কণা তৈরী করে তা গ্রাফাইটের ওপর নিক্ষেপ করা হয়। এতে প্রোটন কণাগুলি ভেঙে কিছু জটিল কণা তৈরী হয়, যেগুলি অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষয় হয়ে মিউয়ন এবং মিউ নিউট্রিনো তৈরী করে। এ কণাগুলিকে তখন লোহার ওপর নিক্ষেপ করা হয়। এতে মিউয়ন নিউট্রিনো বাদে অন্য সব কণা প্রতিফলিত বা শোষিত হয়। মিউয়ন নিউট্রিনোগুলি পৃথিবীর মাটি-পাথর ভেদ করে চলে প্রায় ৭৫০কিলোমিটার দূরে ইতালিতে পৌঁছায়। এই নিউট্রিনো লোহাও ভেদ করে অনায়াসে এপার থেকে ওপারে ছুটে যেতে পারে আলোর গতির চাইতেও বেশী গতিতে। মজার ব্যাপার হলো যে, ভরবিহীন অর্থাৎ অশুন্য ভরের (Mass-less) অধিকারী আলোর কণাই সাধারণতঃ ভরপূর্ণ পারমানবিক কণার চাইতে দ্রুতগামী হয়ে থাকে। কিন্তু অশুন্য ভরের অধিকারী অর্থাৎ ভরযুক্ত নিউট্রিনো যার গতিবেগ নাকি শুন্য ভরের আলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। এখানেই বৈজ্ঞানিক জগতের চরম ও পরম বিস্ময়। অপেরা পরীক্ষণের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে, নিউট্রিনোর গতি হলো আলোর গতির ১.০০০০আইনস্টাইনের আলোক তত্ত্ব বনাম নিউট্রিনোঃ

আজ থেকে শতাধকি বছর আগে প্রখ্যাত জার্মান পর্দাথ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন তাঁর আবিস্কৃত বিখ্যাত সমীকরণ E= MC±  (Theory of Special Relativity বা ‘বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব’) এর আলোকে ঘোষণা করেছিলেন যে, “আলোর চেয়ে দ্রুতগতির আর কিছু নেই”। পক্ষান্তরে Center for European Research of Nuclear (CERN) এর বিজ্ঞানীরা ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানকিভাবে এ মর্মে ঘোষণা করে যে, “আলোর গতির চেয়ে ‘নিউট্রিনো’র গতি অন্ততঃ ২৫ ন্যানো সেকেন্ড বেশি” ! সত্যি সার্ণের এই গবেষণালব্ধ আলোর চাইতে গতিশীল নিউট্রিনোর অস্তিত্ব আইনস্টাইনের E= MC±  (Theory of Special Relativity তত্ত্বকে হুমকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে, অন্যদিকে মিরাজুন্নবী ((সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম) উপলক্ষ্যে বুরাক যোগে মক্কা শরীফ মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা এবং তথা হতে বিশেষ সিঁড়ি (মিরাজ)যোগে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম আকাশের শেষ সীমানা ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ এবং তথা হতে দ্রুতগামী রফরফ যোগে ৮ জান্নাত, আরশে আ'জীম পর্যন্ত পৌঁছার পর রাতের কিছু অংশের মধ্যেই পুনরায় পৃথিবীতে নেমে আসার জন্য প্রয়োজন বর্তমান বিদ্যমান সাধারণ আলোর গতির চাইতেও অভাবনীয় এবং অকল্পনীয় দ্রুততম গতি সত্বার। এই অতি দ্রুতগতিশীল সত্বার অস্তিত্বের সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে আলোর গতির চাইতে অধিক গতিশীল বস্তু কণা নিউট্রিনো আবিস্কারের মধ্য দিয়ে। (সুবহা-নাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী, সুবহা-নাল্লাহিল আ'জীম)। আবিস্কৃত নিউট্রিনোর মাধ্যমে আমরা আশা করি, পবিত্র মিরাজুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম)সহ দ্বীন-ধর্ম বিষয়ক ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর একটা বৈজ্ঞানিক সদুত্তর পাওয়া যাবে ইনশা আল্লাহওয়ামা তাওফীকী ইল্লা বিল্লাহ। 

যে প্রক্রিয়ায়  আল্লাহর আজাব,  রহমতে পরিণত হয়ে  ক্ষতিকর “সৌর ঝড়” থেকে পৃথিবী সুরক্ষা পায়

সূর্যের অভ্যন্তরে যে বিস্ফোরণ ঘটে তাতে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম পরমাণু আন্দোলিত হয় এবং সূর্যের উত্তপ্ত বহিঃস্তর করোনা থেকে নির্গত ইলেকট্রন ও প্রোটন দ্রুতগতিতে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসতে শুরু করে-যাকে বলা হয় “সৌর ঝড়” বা “সৌর বায়ু”-যা মুক্ত চার্জযুক্ত প্লাজমা কণা, গামা রশ্মি, রন্জন রশ্মির (এক্স-রে) মতো ক্ষতিকর রশ্মির সমন্বয়ে গঠিত। উল্লেখ্য, পৃথিবীর দিকে ছুটে আসার সময় সৌর ঝড় বা সৌর বায়ু নিজেই তার চারপাশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি চৌম্বক শক্তি তৈরি করে-যা “করোনাল মাস ইজেকশন” (CMI) নামে পরিচিত (কোভিড-১৯ এর “করোনা” নামটি  সূর্যের উক্ত উত্তপ্ত বহিঃস্তর “করোনা” থেকে উদ্ভূত)। CMI নামক এই চৌম্বক শক্তিতে ১০০ (একশত) কোটি পরমাণু বোমার এক সঙ্গে বিস্ফোরণ শক্তির সমপরিমাণ ধ্বংস শক্তির জন্ম হয়।  কিন্তু  পৃথিবীর নিজস্ব চৌম্বক শক্তির কাছাকাছি এসে পৌঁছলে উক্ত “সৌর ঝড়” বা “সৌর বায়ু”-পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়তে  মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে বাধার সম্মুখীন হয়।  

K†ivbvµvšÍ †ivMxi Pig gzû†Z© †hfv†e Avjøvn Zvqvjvi Lvm ing†Zi aviv †b†g Av†m

K†ivbv wK?

 عَالِمِ الْغَيْبِ لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَلَا أَصْغَرُ مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْبَرُ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ

 wZwb (Avjøvn) A`…k¨ m¤ú‡K© ÁvZ| b‡fvgÛj I f‚gÛ‡j Zvui A‡MvP‡i bq AYz cwigvY wKQz, bv Z`‡c¶v ¶z`Ö Ges bv e…nr-mg¯ÍB Av‡Q mz¯úó wKZv‡e (m‚ivn mvev AvqvZ bs 3, Zvdmx‡i gvwidzj KziAvb)|

 إِنَّ اللَّهَ لاَ يَسْتَحْيِي أَن يَضْرِبَ مَثَلاً مَّا بَعُوضَةً فَمَا فَوْقَهَا فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُواْ فَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُواْ فَيَقُولُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَـذَا مَثَلاً يُضِلُّ بِهِ كَثِيراً وَيَهْدِي بِهِ كَثِيراً وَمَا يُضِلُّ بِهِ إِلاَّ الْفَاسِقِينَ

 "Avjøvn wbtm‡›`‡n gkv ev Z`zaŸ© e¯Íz Øviv Dcgv †ck Ki‡Z j¾v‡eva K‡ib bv| e¯ÍzZ hviv gz'wgb Zviv wbwðZfv‡e wek¦vm K‡i †h, Zv‡`i cvjbKZ©v KZ©…K Dc¯’vwcZ G Dcgv m¤ú‚Y© wbf©zj I mwVK|" (Zvdmx‡i gv'widzj KziAvb, m‚ivn evK¡ivn, AvqvZt 26)

 ÒAvmgvb-hgxb, Avik Kzimx, jvIn-Kjg, MvQ cvjv, e…¶ jZv, GK K_vq `…k¨gvb I A`…k¨ hZ wKQz i†q†Q me wKQzB m…wó K†i†Qb gnvb AvjøvnÓ|(dvZIqv†q wmwÏKxb, 1g LÛ, c…ôvt 33, KziAvb nv`xm wimvP© †m›Uvi (dzidziv `iev†ii M†elYv cÖwZôvb)

K‡ivbv fvBivmt m‚ivn mvev AvqvZ bs 3-এ বর্ণিত b‡fvgÛj I f‚gÛ‡j Zvui A‡MvP‡i bq AYz cwigvY wKQz, bv Z`‡c¶v ¶z`Ö এবং m‚ivn evK¡ivn, AvqvZt 26-এ বর্ণিত gkv ev Z`zaŸ© e¯Íz Avjøvn Zvqvjvi m…ó ¶z`ÖvwZ ¶z`Ö GK cÖvYx mZ¡vi bvg| K‡ivbv fvBivm Zvi PvB‡ZI j¶-‡KvwU ¸Y ¶z`Ö| GwU GZB ¶z`ÖvwZ ¶z`Ö †h, bv Lvwj †Pv‡L, bv GbvjM hz‡Mi gvB‡µv‡¯‹vc, bv †Uwj‡¯‹vc, `‚iex¶Y, AYzex¶Y bv AZ¨vazwbK B‡j±ÖwbK BÝUÖz‡g‡›Ui mvnv‡h¨ K‡ivbv †KvwfW-19-‡K †`L‡Z cviv hvq eis Zv‡K †`L‡j n‡j cÖ‡qvRb B‡jKUÖb gvB‡µv †Uwj‡¯‹v‡ci| KviY we`¨gvb †KvwfW-19 K‡ivbvi AvKvi AvqZb gvÎ 0.12 gvB‡µvb| e¯ÍzZt ¶z`Ö-e…nr cÖvYx-Ro wbwe©‡k‡l me e¯Íz/c`v_©B Avjøvni m…wó (gvLjzK) gvÎ Ges Avnjzjøvn A_©vr Avjøvni cwievifz³ hv D‡Ïk¨wenxb bq|

 K‡ivbvfvBivm kãwU j¨vwUb K‡ivbv ‡_‡K ‡bIqv n‡q‡Q hvi A_© gyKyU| KviY B‡jKU«b AYyex¶Y h‡š¿ fvBivmwU ‡`L‡Z A‡bKUv gyKy‡Ui gZ| fvBiv‡mi Dcwifv‡M ‡c«vwUb mg…× _v‡K hv fvBivj ¯úvBK ‡cc‡jvgvi Øviv Gi A½ ms¯’vb MVb K‡i| G ‡c«vwUb msµvwgZ nIqv wUm¨y webó K‡i| K‡ivbvfvBivm n‡jv wb`yfvBivm ‡k«Yxi K‡ivbvfvBi`v cwievifz³ K‡ivbvfvBwibv Dc‡Mv‡Îi GKwU msµgY fvBivm c«RvwZ| G fvBiv‡mi wR‡bvg wbR¯^ Ribonucleic acid (AviGbG) w`‡q MwVZ| Gi wR‡bv‡gi AvKvi mvaviYZ 26 ‡_‡K  32 wK‡jv ‡em ‡cqvi (kilo base-pair) Gi g‡a¨ n‡q _v‡K hv G ai‡bi RNA fvBiv‡mi g‡a¨ me©e…nr| (m‚Ît DBwKwcwWqv, GbmvB‡K¬v‡cwWqv)

 gvbe msµvgK K‡ivbvfvBivmt

 gvbe msµvgK K‡ivbvfvBivm cÖavbZt 3 cÖKvi h_vt

 1) SARS (Severe Acute Respiratorz Szndrome) hv 2003 mv‡j gvbe †`‡n msµwgZ nq|

2) MARS (Middle East Respiratorz Szndrome) gvbe †`‡n msµwgZ nq 2012 mv‡j|

3) SARS (Severe Acute Respiratorz Szndrome-COV-2) gvbe †`‡n msµgb Kvj wW‡m¤^i 2019 hv eZ©gv‡b Novell CoronaVirus Covid-19 bv‡g wek¦e¨vcx `vwc‡q †eov‡”Q| DNA ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড 

 Novell Covid-19 K‡ivbv fvBiv‡mi MVb-Dcv`vbth‡Kvb fvBiv‡mi g‚j Dcv`vb †cÖvwUb+wbDwK¬K A¨vwmW| Avi GB wbDwK¬K A¨vwmW nq Ribonucleic acid (AviGbG)  bq‡Zv Deoxyribonucleic acid (DNA)  ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড ) GKwU wbDwK¬K GwmW hv Rxe‡`‡ni MVb I wµqvKjvc wbqš¿‡Yi wRbMZ wb‡`©k aviY K‡i| K‡ivbv fvBivm cÖRvwZi me¸wji wR‡bvg GKm‚ÎK AviGbG wewkó| AviGbG+wbDK¬K A¨vwmW wg‡j ˆZix nq ÒwbDwK¬IK¨vcwmWÓ bvgK GKwU KvVv‡gv| GwU _v‡K K‡ivbvi †K›`Ö| Ave…Z _v‡K dm‡dvwjwcW Ges Ab¨vb¨ †cÖvwU‡bi mgš^‡q ˆZix we‡kl ai‡Yi Bb‡fjc Øviv| Bb‡fj‡ci m‡½ †j‡M _v‡K ¯úvBK †cÖvwUb|

Px‡bi nvs‡Sv‡Z †SwRqvs wek¦we`¨vj‡qi GKwU M‡elYvq †`Lv †M‡Q, K‡ivbv fvBivmwU Kgc‡¶ 30wU wfbœ wfbœ wRbMZ ms¯‹i‡Y iƒcvšÍwiZ n‡q‡Q| †WBwj †gBj Rvwb‡q‡Q, gvwK©b M‡el‡Kiv K‡ivbvfvBiv‡mi 14 ai‡bi iƒcvšÍi Lzu‡R †c‡q‡Qb| jm Avjv‡gvm b¨vkbvj j¨ve‡iUwii weÁvbxiv e‡j‡Qb, Gme iƒcvšÍ‡ii gva¨‡g GKwU fvBivm AviI msµvgK n‡q DV‡Z cv‡i| Px‡bi DËiv‡j ¸”QvKv‡i bZzb we¯Ív‡i msµwgZ †ivMx‡`i †¶‡Î K‡ivbvfvBiv‡mi c…_K AvPiY j¶¨ Ki‡Qb wPwKrm‡Kiv| wPwKrm‡Kiv aviYv Ki‡Qb, ARvbv †Kv‡bv Dcv‡q fvBivmwU cwiewZ©Z n‡”Q hv c…w_ex‡K K‡ivbv gz³KiY cÖwµqv AviI RwUj †_‡K RwUjZi n‡q c‡o‡Q| wm½vcz‡ii `¨ weR‡bm UvBg‡mi GK cÖwZ‡e`‡b G Z_¨ Rvbv‡bv nq|

Aci GK M‡elYvq Rvbv hvq †h, Dc‡iv³ GB wZb cÖKv‡ii K‡ivbv gvbz‡li BwgDb wm‡÷‡gi m¶gZv ez‡S AvµgY K‡i _v‡K Ges †m Abzhvqx SARS (Severe Acute Respiratorz Szndrome-COV-2) A_©vr Novell CoronaVirus Covid-19 wb‡Ri †÷Öb¸‡jv cwieZ©b K‡i gvbzl‡K msµwgZ Ki‡Q| 24 wW‡m¤^i †_‡K 4 gvP© ch©šÍ fvBivmwUi wRbMZ BwZnv‡mi g¨vc Kiv n‡qwQj †mLv‡bB GB PvÂj¨Ki Z_¨ D‡V G‡m‡Q| †`Lv †M‡Q K‡ivbvi wZbwU cÖKvi Nwbôfv‡e m¤úwK©Z n‡jI cÖ‡Z¨KwUi Avjv`v Avjv`v ¶gZv I iƒc i‡q‡Q| wZbwU `‡ji Avµg‡Yi Uv‡M©UI wfbœ wfbœ| †KgweÖR wek¦we`¨vj‡qi GK M‡elYvq cÖKvk, Px‡bi Dnv‡b D™¢‚Z Ges c‚e© Gwkqvq msµwgZ GLb †h Novell CoronaVirus Covid-19 fvBivm †`Lv hv‡”Q †mUv wZb cÖKv‡ii fvBiv‡mi g‚j cÖKvi bq| GwU g‚jZ Ggb Abb¨ GK iƒcvšÍi kw³ m¤úbœ Ges cÖLi ezw×`xß (Keen Intellectual) bZzb K‡ivbv cÖRvwZ hv me©vazwbK wWwRUvj cÖhwz&³ m¤úbœ Ávb-weÁvb cxV¯’vb Ges we‡k¦i †kÖô mgikw³ai B½-gvwK©b †m±‡i †`v`©ÛcÖZv‡c P¨v‡jb&Áwenxbfv‡e we`¨gvb hv wek¦‡K nZevK K‡i w`‡”Q, Amnvq n‡q c‡o‡Q wWwRUvj wek¦| "UvBc we" iƒ‡c Px‡bi Dnv‡b D™¢‚Z Novell CoronaVirus Covid-19 c‚e© Gwkqvq, "UvBc-G" iƒc aviY K‡i Av‡gwiKv-A‡÷Öwjqvq, Ges UvBc-we †_‡K cwiewZ©Z n‡q "UvBc-wm" iƒc aviY K‡i wm½vczi n‡q BD‡iv‡c Qwo‡q c‡o‡Q|

 K‡ivbvi gvbe‡`n †Kv‡l cÖ‡e‡k ˆeÁvwbK Kjv-‡KŠkj

 K‡ivbv ev Ab¨‡Kvb fvBiv‡mi gvbe †`‡n cÖ‡ek eo K_v bq| Ggb gvbe ‡`nI i‡q‡Q fvBivm/e¨vK‡Uwiqv enb K‡i hv‡”Q 30 eQi a‡i| G Kvi‡Y nR¡hvÎx ev we‡`kMvgx‡`i Rb¨ i‡q‡Q we‡kl ‡gwWK¨vj ‡U‡ói e¨e¯’v| fvBiv‡mi mvdj¨ ev e¨_©Zv gvbe ‡`n †Kv‡l cÖ‡ek Kiv bv Kivi Dci wfwËkxj | ZvQvov GKwU Pvwe _vK‡jB Zvjv Lzj‡e-Ggb weavb †hgb RM‡Z †bB| Zvjv †Lvjvi kZ©t Pvwe Zvjvi mv‡_ g¨vwPs n‡Z n‡e| Zv bvn‡j GK Pvwe‡ZB me `iRv †Lvjv †hZ| Abziƒc gvbe †`‡n †Kv‡li ewntMV‡bi m‡½ cÖ‡ekK…Z fvBiv‡mi g¨vwPs-wgmg¨vwPs‡qi wKQz welq _v‡K| Avgv‡`i †Kv‡li evB‡ii ¯Í‡i wKQz wi‡mÞi (Receptor) _v‡K| †Kv‡li aiY‡f‡` GB wi‡mÞi¸wji MVb wfbœ nq| fvBiv‡mi †`‡ni (Capsid) ¯úvBK¸‡jv hw` †Kv‡li wi‡mÞ‡ii m‡½ g¨vP K‡i, Zvn‡jB †Kv‡li †fZi AbzcÖ‡ek Kiv mnR nq| ‡Kv‡li †fZi Gfv‡e fvBivm Xz‡K †M‡j Avgv‡`i †`n‡Kv‡li †fZi "Replication" bv‡g †h †gKvwbRg Av‡Q, †mLv‡b fvBiv‡mi wWGbG ev AviGbG m¤ú…³ nIqvi Kvi‡Y fvBiv‡mi wWGbG ev AviGbG czbt czbt ˆZwi n‡Z _v‡K hv msL¨vq j¶ †KvwU Qvwo‡q †h‡Z cv‡i|D‡jøL¨, wWGbG fvBiv‡mi 2wU w÷«s Ges AviGbG fvBiv‡mi 1wU w÷«s i‡q‡Q| AviGbG fvBivm gvbe k¦vmZ‡š¿ c«‡ek K‡i c~Y© wbqš¿Y M«nY K‡i ‡bq Ges gvbe ‡`n‡Kv‡l ‡c«vwUb ‰Zwi K‡i mn‡R Zvi wbR¯^ Dcv`v‡bi Abyiƒc w÷«s ‰Zwi Ki‡Z _v‡K| ‡j ‡KvwfW-19 ‡K mn‡R mbv³ Ges c«wZ‡la‡Ki welqwU wKQyUv `yiƒn e‡U|

 fvBivm we‡klÁ‡`i aviYv, K‡ivbv ‡KvwfW GK  w÷«s wewkó AviGbG  fvBivm nIqvq wgD‡Ukb ev Nb Nb iƒc cwieZ©‡bi d‡j `ytmva¨ n‡q D‡V‡Q Gi mnR f¨vKwmb Avwe¯‹vi|

 gvbe †`‡ni Af¨šÍ‡i K‡ivbv fvBiv‡mi KvRwU wK?

K‡ivbv fvBiv‡mi wbR¯^ †Kvb †cÖvwUb †bB| ev¯Í‡e K‡ivbv gvbe †`nf¨šÍ‡i mßvn- `'z mßvn Ae¯’vbKv‡j e‡m e‡m Ajm mgq KvUvq bv| K‡ivbv Zvi †`nf¨šÍ‡ii wbR¯^ AviGbG-Gi mvnv‡h¨ AvµvšÍ e¨w³i †`n †Kv‡li ivB‡ev‡Rv‡gi m‡½ wg‡j Zvi (Covid-19)  †`‡ni Rb¨ cÖ‡qvRbxq †cÖvwUb cÖ¯ÍzZ Ki‡Z _v‡K|

 ‡Kb gvbe‡`‡n K‡ivbvi GB †cÖvwUb d¨v±ix M‡o †Zvjv?

Avmj KvRUv mviv‡bvi Rb¨B e¯ÍzZt K‡ivbvi GB †cÖvwUb d¨v±i Mov| KvRwU n‡”Q, me©wbgœ 1w`b †_‡K m‡e©v”P 14 w`‡bi gv_vq K‡ivbv Zvi wgkb-wfkb Kvh©Ki Kivi Rb¨ Dcvq Aej¤^b A_©vr "¯úvBK" bvgK Pvwe ˆZix Kiv| Drcvw`Z GB †cÖvwUb w`‡qB Pvwei gZ ¯úvBK ˆZwi K‡i †bq gvbe †`nf¨šÍ‡i mnR cÖ‡e‡ki Rb¨| cÖ‡e‡ki GB mdjZvi j¶Y cÖ‡ekK…Z †`‡n K‡ivbvi cÖv_wgK  j¶Y R¡i, mw`©, Kvwk, Mjve¨_v, k¦vm Kó †`Lv †`qv| j¶¨bxq †h, K‡ivbv wKš‘ AvRe †Kvb DcmM© enb K‡i bv| AwZ mvaviY DcmM© †m cÖKvk K‡i _v‡K (hv‡Z gvbzl wK g‡b Ki‡Z cv‡it G‡Zv "ev‡ivgvmx" DcmM©?)| j¶Y ev Dcm‡M©I i‡q‡Q K‡ivbvi `viæb ezw×gËv!

 gvbe †`†n K†ivbvi P‚ovšÍ c`†¶ct

gvbe †`†n K†ivbvi P‚ovšÍ c`†¶ct K†ivbvfvBivm Zvi wgkb-wfkb P‚ovšÍ ch©v†q mdj m¤ú†bœi Rb¨ hLb gvbe†`†ni Af¨šÍiw¯’Z k¦vmbvwj †Q†o bx†P †b†g dzmdzm-†K msµwgZ K†i ZLbB †ivMxi †`†n Avmj RwUjZv m…wó nq| G mgq dzmdz†mi A†bK †Kvl †f†½ c†o| d†j fvOv †Kv†l dzmdzm f†i †h†Z ïiæ K†i| G†Z †ivMxi dzmdz†m cÖ`v†ni m…wó nq| ejv hvq, G Ae¯’vv m…wóB †hb K†ivbv †KvwfW-19 Gi gvbe†`†n cÖ†e†ki g‚j j¶¨ Ges D†Ïk¨ Mission & Vission. †ivMxi Rxeb-g…Z¨zi cÖkœ GB mg†qB †`Lv †`q| GB mg†qB cÖ†qvRb n†q c†o †ivMx†K AvBwmBD†Z (Insentive Care Unit) ¯’vbvšÍ†ii|

 AvBwmBD'†Z G†nb msK†Ui mg†qB †b†g Av†m gnvb Avjøvni A†kl ing†Zi aviv!

K†ivbv k¦vmbvwj n†q dzmdz†mi †Kvl †f†½, fvOv †Kv†l dzmdzm fwi†q dzmdz†m cÖ`v†ni m…wó K†i †ivMxi Rxeb †h gzû†Z© wecbœ K†i †Zv†j ZLbB †g†nievb Avjøvni c¶ n†Z K†ivbvi weiæ†× ÔAvjøvni KiæYvÕ n†q †b†g Av†m ing†Zi Acwi†gq aviv|

 gvbeRxe†bi G†nb gnvmsK†Ui mg†qB AvµvšÍ †`†ni Af¨šÍiw¯’Z A¨vw›UewWi A†bK cÖwZ†ivax †Kvl K†ivbv fvBivm-†K Avµg†Yi Rb¨ QzU†Z _v†K hv†K ÔmvB†UvwKb ÷ÖgÕ ejv nq|

wbðqB Avjøvni ingZ Zvui AvRv‡ei Dci weRqx

إِنَّ رَحْمَتَ اللَّـهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ  A_©vr wbðqB Avjøvni KiæYv mrKg©kxj‡`i wbKUeZ©x| ' (myiv Avivd, AvqvZ : 56, তফসীরে মা'রেফুল কোরআন)|

 ٢- مَّا يَفْتَحِ اللَّـهُ لِلنَّاسِ مِن رَّحْمَةٍ فَلَا مُمْسِكَ لَهَا ۖ وَمَا يُمْسِكْ فَلَا مُرْسِلَ لَهُ مِن بَعْدِهِ ۚ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ 

 Avjøvn gvby‡li Rb¨ AbyM«‡ni ga¨ ‡_‡K hv Ly‡j ‡`b, Zv ‡divevi ‡KD ‡bB Ges wZwb hv eviY K‡ib Zv ‡KD ‡c«iY Ki‡Z cv‡i bv wZwb e¨ZxZ (m~ivn dvwZi, AvqvZt 2, Zdmx‡i gv'Av‡idyj ‡KviAvb)|

 gvbe †`‡ni A¨vw›UewW (cÖwZiw¶Kv kw³): gnvb Avjøvni A‡kl ingZ 

‡`‡ki ¯^vaxbZv mzi¶vi Rb¨ AšÍZt wZb wZbwU cÖwZi¶v evwnbx †gvZv‡qb Kiv n‡q _v‡K| evwnbx 3wU n‡”Q 1) ¯’j 2) †bŠ Ges 3) wegvb evwnbx| Abziƒc gvbe mÖóv gnvb Avjøvn Zvqvjv Zvui ev›`vi †`n mzi¶vi Rb¨ †gvZv‡qb K‡ib †`n Af¨šÍ‡i †h evwnbx Zvi ˆeÁvwbK bvg A¨vw›UewW ev cÖwZiw¶Kv (Bs‡iwR fvlvq Antibody ev Immunoglobulin [4] "cÖwZi¶v ¸wUKv")| GwU gvbe †`‡n ¶wZKi fvBivmRvZxq ewnivMZ c`v‡_iÖ ev cÖwZi¶v-DÏxc‡Ki (A¨vw›U‡Rb) Dcw¯’wZi cÖZ¨zËi wn‡m‡e †`‡ni Abvµg¨Zš¿ (Z_v cÖwZi¶vZš¿) KZ©…K Drcbœ GK ai‡bi Bs‡iwR IqvB-AvK…wZi (¸jwZi gZ †`L‡Z) cÖwZi¶vg‚jK †cÖvwUb RvZxq GK cÖKvi c`v_©| cÖwZiw¶Kv¸wj cÖwZi¶v-DÏxcK¸wj‡K kbv³ K‡i Ges G¸wji Mv‡q Zv‡`i IqvB-AvK…wZi evû؇qi AMÖcÖvšÍ¸wji gva¨‡g Ave× n‡q G¸wj‡K †`n †_‡K weZvob Kivi †Póv K‡i|[5][6] †`n eû ai‡bi c`v_©‡K cÖwZi¶v-DÏxcK wn‡m‡e MY¨ Ki‡Z cv‡i, †hgb †ivMe¨vwa msµvgYKvix RxevYz (fvBivm I e¨vK‡Uwiqv), welv³ c`v_© †hgb KxUcZ‡½i wel, ewnivMZ †cÖvwUb, BZ¨vw`| cÖwZiw¶Kv¸wj j¶ j¶ ai‡bi n‡q _v‡K| G¸wj †`‡ni jwmKv‡Kvl bvgK GK ai‡bi †Kv‡l †Lv`vqx Kz`i‡Zi gva¨‡g Avcbv Avcwb Drcbœ nq| cÖwZiw¶Kv¸wj †`‡ni Abvµg¨Z‡š¿i (cÖwZi¶vZ‡š¿i) GKwU ¸iæZ¡c‚Y© Ask| mg¯Í †giæ`Ðx cÖvYxi i‡³i Mvgv globulin (Mvgv ¸wUKv) As‡kB cÖavbZ A¨vw›UewW ev cÖwZiw¶Kv cvIqv hvq|[7] 

 bvgvR kix‡i A¨vw›U ewW ev †ivM cÖwZ‡iva ¶gZv evovq †hfv‡e

 GKRb gzwgb-gzmjgvb‡K w`‡bi g‡a¨ cvuP Iqv³ mvjvZ ev bvgv‡R †gvU 17 ivKvZ diR bvgvR Av`vq Ki‡Z nq| Avi mzbœZmn n‡j Zv cÖwZw`b 48 ivKvZ cvjb Kiv nq| bdj Av`vq Ki‡j Av‡iv †ewk ivKv‡Zi gva¨‡g bvgvR Av`vq Ki‡Z nq|

bvgv‡Ri mgq cÖ‡Z¨K ivKv‡Zi mgq nvZ evuav QvovI `vuov‡bv, emv, iæKz‡Z hvIqv, wmR`vq hvIqv, mvjvg †div‡bv, BZ¨vw` †gvU 7 †_‡K 9 iK‡gi kvwiixK A½fw½‡Z cÖwZevi wbw`©ó mgq wb‡q e‡m ev `vuwo‡q _vK‡Z nq| ˆah© mnKv‡i wbi‡e wbf…‡Z bvgvR Av`v‡qi mgq gvbe‡`‡ni cÖwZwU †Rvovi gvsm‡cwki mzlg ms‡KvPb I cÖmviY nq| GKRb gvbzl hw` w`‡b cvuPevi mvjvZ Av`vq K‡i, Zvn‡j kixi‡K mz¯’ ivL‡Z Zvi Avi Avjv`vfv‡e kixi PP©v Kivi `iKvi nq bv|

 D‡L¨, †`n‡K mz¯’ mej ivL‡Z, †`‡ni BwgDwbwU‡K mz`…p ivL‡Z kixi PP©v weKí †bB| GKRb gzmjgvb cÖwZw`b GKvMÖwP‡Ë `zB ivKvZ bvgv‡Ri mgq †gvU 14 evi wewfbœ kvixwiK web¨v‡m †_‡K bvgvR Av`vq Ki‡Z nq| †m wn‡m‡e Zvu‡K ûhzix Kj‡e cÖwZw`b 119 evi, gv‡m 3750 evi Ges eQ‡i 42 nvRvi 840 evi kixi‡K wewfbœ A½web¨v‡m †_‡K mvjvZ Av`vq K‡i wb‡Z nq| hv Avgv‡`i cÖvK…wZK †ivM cÖwZ‡iva ¶gZv ev BwgDwbwU‡K evwo‡q †`q A‡bK ¸Y|

 hw` GKRb gzmjgvb M‡o 50 eQi evu‡Pb Ges wZwb hw` 10 eQi eqm †_‡K ïaz eva¨Zvg‚jK mvjvZ ¸‡jv Av`vq Kiv K‡ib Zvn‡j †`Lv hvq Zv‡K mvivRxe‡b †gvU 17 jvL 13 nvRvi 6 k'Zevi kixiUv‡K wbw`©ó wKQz A½web¨v‡m †i‡L, wbw`©ó wKQz mgq wb‡q Ae¯’vb Ki‡Z nq hv †ivM cÖwZ‡iva kw³ e…w×i mnvqK|

bvgv‡R wmR`vi gva¨‡g me‡P‡q †ewk DcK…Z nq Avgv‡`i †`‡ni dzmdzm hv K‡ivbvi Avµg‡bi cÖavb j¶¨e¯Íz| KviY G Ae¯’v‡b dzmdzm †`‡ni R‡b¨ cÖ‡qvRbxq me‡P‡q †ekx i³ m‡½ Aw·‡R‡bi mgš^q NUv‡Z cv‡i| i‡³ Aw·‡Rb †mPz‡ikb e…w× cvq| GRb¨ †`Lv hvq AvBwmBD'‡Z †Kvgvq _vKv †ivMxi Aw·‡Rb m¨vPz‡ikb AebwZ NU‡j Zvi i‡³i Aw·‡Rb evov‡Z †ivMx‡K A‡bKUv wmR`vi g‡Zv cwRk‡b ivLv nq| G‡K e‡j †cÖvwbs|

D‡L¨, GKRb gzmwj‡gi cÖwZw`‡bi GB bvgvR Av`v‡q GKRb gvbz‡li 80 wK‡jv K¨vjwi kw³ e¨q nq| ZvQvov K‡ivbvfvBivm cÖwZ‡iv‡a ïiæ †_‡KB wek¦ ¯^v¯’ ms¯’vmn mviv we‡k¦i me wPwKrmv M‡elKiv GKUv civgk©B evievi w`‡q Avm‡Qb hv n‡jv cwi®‹vi cwi”Qbœ _vKv, evievi nvZ †avqv hv Bmjvgx kivn-kvixqv‡Z Ahz-‡Mvm‡ji weav‡b i‡q‡Q| 

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে রোজা

 ‘‘ওয়া আনতা সুউমু খাইরুল লাকুম ইন্কুনতুম তালামুন’’- অর্থাৎ- ‘‘তোমরা যদি রোজা রাখ তবে তাতে রয়েছে তোমাদের জন্য কল্যাণতোমরা যদি সেটা উপলব্ধি করতে পার।’’ (সূরা বাকারাহ- ১৮৪)

ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত কল্যাণকরপূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান (Complete Code of Life)। তাই এতে স্বাস্থ্যনীতিও রয়েছে। রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম। সকল সক্ষম ঈমানদারদের উপর আল্লাহ রমযানের একমাস রোজা ফরজ করেছেন।

ইউরোপের ঘরে ঘরে ইদানীং রোজা করার হিড়িক পড়েছে। সবার মুখে এক কথা- শরীরটাকে ভালো রাখতে চাওতো রোজা পালন কর। ধারণা করা হচ্ছেরোজা পালনের ব্যাপারে এ ধরনের চেতনা সৃষ্টির পিছনে সত্তর দশকে প্রকাশিত একটি বই বিশেষ ফলদায়ক। বইটি হচ্ছে প্রখ্যাত জার্মান চিকিৎসাবিদ ড. হেলমুট লুটজানার-এর The Secret of Successful Fasting অর্থাৎ উপবাসের গোপন রহস্য। বইটিতে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গের গঠন ও কার্যপ্রণালী বিশ্লেষণ করে নিরোগদীর্ঘজীবী ও কর্মক্ষম স্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে বছরের কতিপয় দিন উপবাসের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ড. লুটজানারের মতেখাবারের উপাদান থেকে সারাবছর ধরে মানুষের শরীরে জমে থাকা কতিপয় বিষাক্ত পদার্থ (টকসিন)চর্বি ও আবর্জনা থেকে মুক্তি পাবার একমাত্র সহজ ও স্বাভাবিক উপায় হচ্ছে উপবাস। উপবাসের ফলে শরীরের অভ্যন্তরে দহনের সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে শরীরের ভিতর জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থসমূহ দগ্ধীভূত হয়ে যায়।

উল্লেখ্য যে, ‘রমযান’ শব্দটি আরবির রমজ’ ধাতু থেকে উৎপত্তি। এর অর্থ দহন করাজ্বালিয়ে দেয়া ও পুড়িয়ে ফেলা। এভাবে ধ্বংস না হলেঐসব বিষাক্ত পদার্থ শরীরের রক্তচাপএকজিমাঅন্ত্র ও পেটের পীড়া ইত্যাদি বিভিন্ন রোগব্যাধির জন্ম দেয়। এছাড়াও উপবাস কিড্নী ও লিভারের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরে নতুন জীবনীশক্তি ও মনে সজীবতার অনুভূতি এনে দেয়।

রোজা পালনের ফলে মানুষের শরীরে কোন ক্ষতি হয় না বরং অনেক কল্যাণ সাধিত হয়তার বিবরণ কায়রো থেকে প্রকাশিত ‘Science Calls for Fasting’ গ্রন্থে পাওয়া যায়। পাশ্চাত্যের প্রখ্যাত চিকিৎসাবিদগণ একবাক্যে স্বীকার করেছেন, “The power and endurance of the body under fasting conditions are remarkable : After a fast properly taken the body is literally born afresh.”

 অর্থাৎ রোজা রাখা অবস্থায় শরীরের ক্ষমতা ও সহ্যশক্তি উল্লেখযোগ্য : সঠিকভাবে রোজা পালনের পর শরীর প্রকৃতপক্ষে নতুন সজীবতা লাভ করে।

রোজা একই সাথে দেহে রোগ প্রতিষেধক ও প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। রোজাব্রত পালনের ফলে দেহে রোগ জীবাণুবর্ধক জীর্ণ অন্ত্রগুলো ধ্বংস হয়ইউরিক এসিড বাধাপ্রাপ্ত হয়। দেহে ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে বিভিন্ন প্রকার নার্ভ সংক্রান্ত রোগ বেড়ে যায়। রোজাদারের শরীরের পানির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার ফলে চর্মরোগ বৃদ্ধি পায় না।

 আধুনিক যুগের চিকিৎসা বিজ্ঞানে রোজার ব্যবহারিক তাৎপর্য উপলব্ধি করেই জার্মানসুইজারল্যান্ড প্রভৃতি দেশে ব্যবস্থাপত্রে প্রতিবিধান হিসেবে এর উল্লেখ করা হচ্ছে।

ডা. জুয়েলস এমডি বলেছেন, ‘‘যখনই একবেলা খাওয়া বন্ধ থাকেতখনই দেহ সেই মুহূর্তটিকে রোগমুক্তির সাধনায় নিয়োজিত করে।’’

ডক্টর ডিউই বলেছেন, ‘‘রোগজীর্ণ এবং রোগক্লিষ্ট মানুষটির পাকস্থলী হতে খাদ্যদ্রব্য সরিয়ে ফেলদেখবে রুগ্ন মানুষটি উপবাস থাকছে নাসত্যিকাররূপে উপবাস থাকছে রোগটি।’’

 তাই একাদশ শতাব্দীর বিখ্যাত মুসলিম চিকিৎসাবিজ্ঞানী ইবনে সিনা তার রোগীদের তিন সপ্তাহের জন্য উপবাস পালনের বিধান দিতেন।

 ডা. আলেক্স হেইগ বলেছেন, ‘‘রোজা হতে মানুষের মানসিক শক্তি এবং বিশেষ বিশেষ অনুভূতিগুলো উপকৃত হয়। স্মরণশক্তি বাড়েমনোসংযোগ ও যুক্তিশক্তি পরিবর্ধিত হয়। প্রীতিভালোবাসাসহানুভূতিঅতীন্দ্রিয় এবং আধ্যাত্মিক শক্তির উন্মেষ ঘটে। ঘ্রাণশক্তিদৃষ্টিশক্তিশ্রবণশক্তি প্রভৃতি বেড়ে যায়। এটা খাদ্যে অরুচি ও অনিচ্ছা দূর করে। রোজা শরীরের রক্তের প্রধান পরিশোধক। রক্তের পরিশোধন এবং বিশুদ্ধি সাধন দ্বারা দেহ প্রকৃতপক্ষে জীবনীশক্তি লাভ করে। যারা রুগ্ন তাদেরকেও আমি রোজা পালন করতে বলি।’’

বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী সিগমন্ড নারায়াড বলেন, ‘রোজা মনস্তাত্ত্বিক ও মস্তিষ্ক রোগ নির্মূল করে দেয়। মানবদেহের আবর্তন-বিবর্তন আছে। কিন্তু রোজাদার ব্যক্তির শরীর বারংবার বাহ্যিক চাপ গ্রহণ করার ক্ষমতা অর্জন করে। রোজাদার ব্যক্তি দৈহিক খিচুনী এবং মানসিক অস্থিরতার মুখোমুখি হয় না।’’

  জনৈক প্রখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী মনের প্রগাঢ়তা ও বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশে রোজার ভূমিকা প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘রোজার অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে কি পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করা হলো তার ওপর বুদ্ধিবৃত্তির কর্মক্ষমতা নির্ভর করে না। বরং কতিপয় বাধ্যবাধকতার উপরই তা নির্ভরশীল। একজন যত রোজা রাখে তার বুদ্ধি তত প্রখর হয়।’’

 ডাঃ এএম গ্রিমী বলেন, ‘‘রোজার সামগ্রিক প্রভাব মানব স্বাস্থ্যের উপর অটুটভাবে প্রতিফলিত হয়ে থাকে এবং রোজার মাধ্যমে শরীরের বিশেষ বিশেষ অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে ওঠে।’’

 ডাঃ আরক্যাম ফোর্ডের মতে, ‘‘রোজা হচ্ছে পরিপাক শক্তির শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী।’’

 ডাঃ বেন কিম তাঁর এক প্রবন্ধে বেশ কিছু রোগের ক্ষেত্রে উপবাসকে চিকিৎসা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এরমধ্যে উচ্চ রক্তচাপশ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ (হাঁপানী)শরীরের র্যাশদীর্ঘদিনের মাথাব্যথাঅন্ত্রনালীর প্রদাহক্ষতিকর নয় এমন টিউমার ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে তিনি বলেনউপবাসকালে শরীরের যেসব অংশে প্রদাহ জনিত ঘা হয়েছে তা পূরণ (Šণযটধর) এবং সুগঠিত হতে পর্যাপ্ত সময় পেয়ে থাকে। বিশেষত খাদ্যনালী পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাওয়াতে তার গায়ে ক্ষয়ে যাওয়া টিস্যু পুনরায় তৈরি হতে পারে। সাধারণত দেখা যায় টিস্যু তৈরি হতে না পারার কারণে অর্ধপাচ্য আমিষ খাদ্যনালী শোষণ করে দূরারোগ্য সব ব্যাধির সৃষ্টি করে ডাঃ বেন কিম আরো বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন উপবাস কিভাবে দেহের সবতন্ত্রে (ওর্হ্রণব) স্বাভাবিকতা রক্ষা করে।

 প্রখ্যাত চিকিৎসক ডাঃ জন ফারম্যান এক নিবন্ধে সুস্বাস্থ্য রক্ষায় উপবাস এবং খাবার গ্রহণের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে উপবাসের স্বপক্ষে মত দিয়েছেন।

 বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ নূরুল ইসলাম বলেছেন, ‘‘রোজা মানুষের দেহে কোন ক্ষতি করে না।  

স্বাস্থ্য বিজ্ঞান এবং সূন্নাত-ই-রসূলুল্লাহ

সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম

একবার কোন এক রাষ্ট্রপ্রধান মহানবী (সা.)-কে উপঢৌকন হিসেবে একজন চিকিৎসক পাঠিয়েছিলেন মদীনায়। চিকিৎসক মদীনায় অনেক দিন থাকলেন। কিন্তু কোনো রোগীর দেখা পেলেন না। অবশেষে তিনি হুজুর (সা.)-এর কাছে আরজ করলেন, “আমি চলে যেতে চাই। কারণ মদীনায় আমি এসেছি চিকিৎসকের দায়িত্ব পালনের জন্য। কিন্তু এ পর্যন্ত কোন রোগীর দেখাই পাইনি” রাসূলে আকরাম (সা.) অতি সিংক্ষেপে একটি মূল্যবান কথা বললেন, “আমরা পেটে ক্ষুধা লাগলে খাই এবং পেট পূর্ণ হওয়ার আগে খাওয়া বন্ধ করি। ফলে আমাদের স্বাভাবিক কোন রোগ হয় না।

আমরা জানি স্বাস্থ্যই সুখের মূল। তাই  আমরা স্বাস্থ্যের প্রতি সদা দৃষ্টি রাখি। প্রিয়জনের অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। অনেকটা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মত অতি আস্থা-বিশ্বাস আর আত্ম প্রত্যয়ের সাথেই পরামর্শ দিয়ে থাকি অমুক জিনিস খাবেন, সাবধান অমুখ জিনিস খাবেন না। এটি ব্যথা-বেদনায় খুবই ফলদায়ক ইত্যাদি ইত্যাদি। কলম কাগজ থাকলে লিখিই দিই বিভিন্ন ওষুধের নামও। এতে প্রমাণিত হয়, মানুষ নিজের, প্রিয়জনের স্বাস্থ্যের জন্য কত আন্তরিক এবং যত্নশীল। সত্যিই সুস্বাস্থ্য আল্লাহ তায়াল অপার নিয়ামত বটে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচারিত পুরো জীবন-জিন্দেগী কত স্বাস্থ্যসম্মত এবং বৈজ্ঞানিক তার কতিপয় দিক সংক্ষিপ্তভাবে নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ

ঘুম থেকে ওঠার পর দুহাতের তালু দিয়ে মুখমন্ডল ও দুচোখ মর্দন করা

 এতে তন্দ্রাভাব দূর হয়ে যায়। (শামায়েলে তিরমিযী)

 ঘুম থেকে উঠেই মিসওয়াক করা। (আবু দাউদ)

 মেসওয়াক ও আধুনিক বিজ্ঞান :

আল্লাহ তাআলা বলেনহে নবী আপনি বলে দিনযদি তোমরা আল্লাহ কে ভালবাসতে চাও তাহলে আমার অনুসরণ কর। ফলে আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন ও তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেনআর আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল ও দয়ালু। [সূরা আল ইমরান : ৩১]

অপর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেনতোমাদের নিকট রাসূল সাযে আদর্শ নিয়ে এসেছেন তা তোমরা গ্রহণ কর। এবং যে সমস্ত বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকো। [সূরা হাশর : ৭]

রাসূল সা. বলেন মেসওয়াক হল মুখের পবিত্রতার মাধ্যম এবং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির কারণ। [বুখারী] হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেনরাসূল সাবলেছেন যদি আমি আমার উম্মতের উপর কষ্টের আশংকা না করতাম তাহলে আমি তাদেরকে ইশার নামায বিলম্বে পড়তে এবং প্রত্যেক নামাযের পূর্বে মেসওয়াক করতে আদেশ করতাম। [বুখারীমুসলিম]

শুরাইহ ইবনে হানী থেকে বর্ণিততিনি বলেনআমি হযরত আয়েশা রা. কে জিজ্ঞেসা করলামরাসূল সা. যখন ঘরে প্রবেশ করতেন তখন সর্বপ্রথম কি করতেনউত্তরে তিনি বলেঘরে প্রবেশ করে সর্বপ্রথমে তিনি মিসওয়াক করতেন [মুসলিম]

মিসওয়াক রাসূলে আকরামের (সা.) জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। তাঁর ইন্তেকাল হয়েছে মিসওয়াকরত অবস্থায়। হুজুর (সা.) মেসওয়াক সম্পর্কে অনেক ফযীলত বর্ণনা করেছেন। আধুনিক চিকিৎসাবিদগণ এ সুন্নত থেকে বেশ কিছু তথ্য বের করেছেন। দাঁতের ভয়ংকর কয়েকটি রোগ হয়ে থাকে। যেমন : জিঞ্জিভাইটিস (Gingivitis), এ রোগ হলে দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়তে থাকে এবং পচন ধরে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। কেরিস টিথ- এ রোগ হলে দাঁতের ক্ষয় শুরু হয়। পাইয়োরিয়া (Pyorrhea)-এতে দাঁতের মাড়ি ফুলে যায়রক্ত ঝরে। মিসওয়াক এ রোগগুলো দূর করতে সক্ষম। গাছের ডাল দ্বারা মেসওয়াক করা স্নুত। ব্রাশ দ্বারা সুন্নত নয়। দেখা গেছেপায়োরিয়া হলে দাঁতের মাড়ি ফুলে যায়। তখন ডাক্তারগণ পরামর্শ দেন মাড়িতে শক্ত কিছু দিয়ে হালকা হালকা করে চাপ দেয়ার জন্য। মিসওয়াক এ ক্ষেত্রে অনেক সহায়তা করে যা ব্রাশে হয় না। তাছাড়া মিসওয়াকের চাপটা একটু শক্ত হওয়ায় দাঁত পরিষ্কার হয় বেশী।

 দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত ভালভাবে ধোয়ার পর পানির পাত্রে হাত দেওয়া। (তিরমিযী)

এটা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই জরুরী বিষয়। ঘুমে থাকাবস্থায় অচেতনভাবে শরীরের গুপ্তাঙ্গে স্বাভাবতই হাত যায়। ফলে সেখান থেকে নানা প্রকার রোগ জীবাণু হাতে লাগে। তাই সে হাত না ধুয়ে কিছু খেলে মারাত্মক রোগ হতে পারে। তাছাড়া হাতে লেগে থাকা জীবাণু থেকে বিভিন্ন প্রকার সংক্রামক রোগও হতে পারে। যেমনগুহ্য দ্বারে হাত লাগলে এ থেকে বিভিন্ন রকম কৃমি তো আছেইএছাড়াও পুরুষের গনোরিয়া থেকে অন্যজন সংক্রামিত হতে পারে। মেয়েদের ট্রাইকোমনাস (Trichomonus) থাকলে সংক্রামিত হতে পারে।

পায়খানায় জুতা পায়ে মাথা আবৃত করে যাওয়া। (ইবনে সাযাদলু মাদ)

 পায়খানায় বহুবিধ রোগ জীবাণু থাকেবিশেষ করে বক্রকৃমির ডিম (Hook Worm) যা খালি চোখে দেখার কোন উপায় নেইখালি পা থাকলে এগুলো সহজেই ত্বকের গভীরে পৌঁছে যায়। ফলে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। রক্ত স্বল্পতাঅনিয়মিত পায়খানা হয়। শরীরে ঘন ঘন জ্বর দেখা দেয়। শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। জুতা পায়ে থাকলে সে আশংকা আর থাকে না।

 মাথায় কাপড় দেয়া সূন্নাত

ওয়াশ রুম বা টয়লেট প্রস্রাব-পায়খানার নিরাপদ স্থান। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায়  সায়েন্স-এ মূলতঃ রোগীর সঠিক রোগ নির্ণয়ে তার প্রস্রাব-পায়খানার প্যাথলজিক্যাল টেস্ট খুবই জরুরী। কারণ, প্রস্রাব-পায়খানায় রোগীর রোগের জীবাণু নিহিত থাকে।

মাথার চুল সংবেদনশীল। এগুলো যেমন অতি সহজে জীবাণু ধারণ করতে পারে তেমনি জীবাণু ছড়াতেও সক্রিয়। তাই অস্ত্রোপচারের সময় ডাক্তারগণকে দেখা যায়তারা মুখমন্ডল ছাড়া মাথাও টুপি দিয়ে ঢেকে ফেলেন যাতে করে কোন রোগ জীবাণু ছড়াতে না পারে। হোটেল-রেস্তোরাতেও এখন হোটেল বয়রা বিশেষ ধরণের টুপি ব্যবহার করেন যাতে চুল হতে রোগ জীবাণু খাবার টেবিলে না ছড়ায়।  

পায়খানায় অসংখ্য রোগ জীবাণু ছড়িয়ে থাকে। মাথা আবৃত থাকলে চুল সে জীবাণু ধারণ থেকে রক্ষা পায়।

পেশাব পায়খানায় ছিটাফোটা থেকে সতর্ক থাকা সূন্নাত। (বোখারীতিরমিযী)

লক্ষণীয় বিষয়গুলোশরীরে যে সমস্ত রোগ জীবাণু বের হয়এর ৯০ শতাংশ প্রস্রাবের সাথে আর ১০ ভাগ পায়খানার সাথে বের হয়। প্রস্রাবের ছিঁটাফোটা থেকে সতর্ক থাকা শুধু সুন্নতের জন্য নয়স্বাস্থ্যের জন্য এদিকে লক্ষ্য রাখা অত্যন্ত জরুরী। তাছাড়া, ইসলামী শরীয়াতে প্রস্রাব নাজাসাতে গলিজা বা কঠিন নাপাকী যা সালাত বা নামাজে আদায়ে অযোগ্য। কারণ, নামাজের ১৩ ফরজের এক ফরজ জামা পাক।  

 অযু করা সূন্নাত

 সালাত বা নামায আদায় এবং পবিত্র কোরআন স্পর্শের জন্য অযু করা ফরয। আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ পাক না হয়ে তোমরা কোরআন স্পর্শ করো না

শরীরের যে অঙ্গগুলো কাপড়ের বাইরে থাকেযেমন হাতমুখমন্ডলপাটাখনু পর্যন্ত। অযুতে এসব যায়গা ধুতে হয়। ফলে এগুলো রোগজীবাণুমুক্ত হয়। এছাড়া ধোয়ার সময় এ সকল স্থানের স্নায়ু (Nerve) ও উপশিরা (Capillary) গুলো ঠান্ডা হয় যাতে রক্তের স্পন্দন সহজ হয়।

 দাঁড়ি রাখা সূন্নাত 

 দাড়িতে পুরুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। দাঁড়ি না রাখলে মুখের ত্বকে দাগ পড়ে যায়। বার বার সেভ করার ফলে ত্বকের স্পর্শকাতরতা কমে যায়। দৃষ্টিশক্তি লোপ পেতে থাকে।

 নাভির নীচেরবগলের চুল কাটা সূন্নাত। (মুসলিম)

বগলের নীচের ও গুপ্তাঙ্গের চুল সব সময় ঢাকা থাকে বিধায় এগুলোতে ময়লা জমে। ফলে নানা ধরনের জীবাণুর জন্ম হয়। স্বাভাবতই এগুলো অনেক রোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “চল্লিশ দিনের বেশী এগুলো না কাটলে গোনাহ হবে। উল্লেখ্য, আধুনিক সার্জারি বিজ্ঞানমতে রোগীর অপারেশনের অআগে কেবল নাভির নীচের পশম নয়, অআশ-পাশের বান্চিত লোমও ছেচে ফেলা হয় রোগ জীবাণু মুক্তকরণের জন্য।

 চুল ধোয়াতৈল লাগানোআচড়ানো সুন্নাত

 চুল ধুলে ময়লা দূর হয়। আচড়ালেও ময়লা পরিষ্কার হয়। চুলে তেল দিলে মাথা ঠান্ডা থাকে। গোড়া শক্ত হয়। চুলের শিকড় (Root) গভীরে থাকে। চুল কাল হয়।

 নখ কাটা সূন্নাত

সুস্থ স্বাস্থ্য রক্ষার্থে নখ কাটা অত্যন্ত জরুরী। নখ না কেটে খাবার খেলে সেখানে জমে থাকা ময়লা পেটে গেলে খাবার হজমে অসুবিধার সৃষ্টি হয়। আমাশয়ডায়রিয়াটাইফয়েড ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কৃমির জন্ম হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সূঁচ কৃমি (Pinworm) ও বক্র কৃমি (Hookworm), হয়ে থাকে। সূঁচ কৃমি হলে চুলকানির সৃষ্টি হয়। গুহ্যদ্বারে একজিমা দেখা দেয়। রাতে ঘন ঘন পেশাব হয়। ভেজাইনেটিস (Veginetis) রোগের প্রাদুর্ভাব হয়।

 মাথা আবৃত করে খানা খাওয়া সূন্নাত

পূর্বেই বলা হয়েছে মাথার চুল সংবেদনশীল। এগুলো যেমন জীবাণু ধারণ করতে পারেতেমনি ছড়াতেও পারে দ্রুত। তাই খাবারে যাতে জীবাণু ছড়াতে না পারে সেজন্য মাথা ঢাকার যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে।

 আঙ্গুল চেটে খাওয়া সূন্নাত (তিরমিযী)

 খাওয়ার পর আঙ্গুল চেটে খাওয়া সুন্নাত। (তিরমিযী)

 এ সুন্নত থেকে চিকিৎসাবিদগণ সুন্দর তথ্য বের করেছেন। খাওয়া শেষ হলে আঙ্গুল চাটার সময় মুখের ভেতর সেলিভারী গ্ল্যান্ড (SalivaryGland) থেকে টায়ালিন (Ptyalin) নামক এক প্রকার পাচক রস বের হয়যা খাবার পাকস্থলী থেকে শিষণ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পূর্বেই প্রায় অর্ধেক হজম হয়ে যায়।

 গোসল করা সূন্নাত

কথিত আছে যে, মধ্যযুগের ইউরোপীয়রা নিয়মিত গোসলে অভ্যস্ত ছিলেন না। তখনকার আরব মুসলমানরা পানি সংরক্ষণাগার হাউজ প্রথার প্রচলন করে গোসল-কে ব্যাপক জনপ্রিয় এবং প্রসারিত করেছিলেন। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা নিয়মিত গোসলে রোগীকে উৎসাহিত করে থাকেন। 

প্রথমে মাথায় ও কাঁধে পানি দেওয়া। গোসল করলে শরীরের ময়লা দূর হয়। রোগ জীবাণু থাকে না। মাথায় পানি দেয়ার ফলে মস্তিষ্ক ঠাণ্ডা থাকে এবং উচ্চ রক্তচাপ দূর হয়।

 জুতা পায়ে দেওয়া সূন্নাত

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত জুতা পরিধান করতেন। এমনি পবিত্র মিরাজুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কালীন মহাকাশ পরিভ্রমণের সময়ও জুতা পরিধান অবস্থায় ছিলেন।

মাটিতে বহুবিধ রোগ জীবাণু ছড়িয়ে থাকে। শরীরের মধ্যে পায়ের পাতা নীচটাই মাটির সাথে লাগে বেশী। ফলে সেখানে কোন জীবাণু লেগে হতে পারে মারাত্মাক কোন রোগবিশেষ করে বক্র কৃমিযা পূর্বে উল্লিখিত হয়েছেএগুলোর ডিম সর্বত্র ছড়িয়ে থাকে। অনেক দিন পূর্বে এক স্থানে একটু মল ছিলপরে ধুয়ে মুছে সব শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু বক্র কৃমির ডিম নিঃশেষ হয়ে যায় না। এরা বহুদিন পর্যন্ত টিক থাকে। খালি পা পেলে এগুলো সহজেই গভীরে ঢুকে যায়।

 খৎনা করা সূন্নাত

মুসলমানদের একটা বিশেষ পালনীয় সুন্নত হলো খৎনা। লিঙ্গের উপরিভাগের বাড়তি চামড়া না কাটলে ভয়ানক রোগ হতে পারে। এই ত্বকের ভেতর জমে থাকা ময়লা বিষাক্ত হয়ে অনেক সময় চামড়া ফুটো হয়ে যায়। উপরে ফুটো হলে এটাকে ফাইমসিস (Phimosis) বলে। নীচে ফুটো হলে প্যারাফাইমসিস (Paraphimosis) বলে। এ রোগ হলে উপরের বাড়তি চামড়া না কাটলে চামড়ায় পচন ধরতে পারে। স্ত্রী সহবাসে মারাত্মক অসুবিধা হয়। এর ময়লার সাথে জমে থাকা বিভিন্ন রোগ জীবাণু স্ত্রীজরায়ুতে লেগে নানা রকম সংক্রামক রোগ দেখা দেয়। লিঙ্গের মাথায় মাংস জমে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে বিধায় ক্যান্সার হতে পারে।

 

Comments

Popular posts from this blog

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে উলামায়ে কেরামদের ভূমিকা