প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে উলামায়ে কেরামদের ভূমিকা
প্রযুক্তির
সঠিক ব্যবহারে উলামায়ে কেরামদের ভূমিকা :
মুহাম্মাদ শেখ রমজান হোসেন
উল্লেখ্য, হজরত যাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জান্নাতের অধিবাসীরা তাদের নাজ ও নেয়ামত রাজি উপভোগে নিমগ্ন থাকবে। হঠাৎ করে তখন ওপর দিক থেকে তাদের প্রতি এক নূর বিকশিত হবে। মস্তক উত্তোলন করে তাকাতেই তারা দেখতে পাবে, ওপর দিক হতে স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাসরিফ আনয়ন করেছেন। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা বলবেন : ‘আস সালামু আলাইকুম’ হে জান্নাতের অধিবাসিরা! রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন : এই সালাম সম্ভাষণই হচ্ছে- কোরআনুল কারিমের নিম্নোক্ত বাণীর মূল তাৎপর্য- ‘সালামুন কাওলাম মির রাব্বির রাহিম’ অর্থাৎ দয়াময় প্রতি পালাকের পক্ষ হতে তাদের প্রতি সালাম বর্ষিত হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন : অতঃপর আল্লাহপাক তাদের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করবেন এবং তারাও আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের দিকে তাকিয়ে থাকবেন। যতক্ষণ তারা আল্লাহপাকের দিকে তাকিয়ে থাকবেন, ততক্ষণ অন্য কোনো নেয়ামতের দিকে তাদের দৃষ্টি থাকবে না। (সহিহ মুসলিম, জামেয়ে তিরমিজি, সুনানে নাসাঈ ও সুনানে ইবনে মাজাহ)।
তাছাড়া, জান্নাতিদের সাথে আল্লাহ তায়ালা মজলিশ করবেন এবং জান্নাতিদেরকে বলা হবে, তোমরা আমার কাছে আর কি কি নেয়ামত আশা করো? জান্নাতিরা এ প্রশ্নে হতবিহবল হয়ে পড়বেন কারণ, কল্পনাতীত এত নাজ নেয়ামত সত্বেও বারে ইলাহির কাছে আর কি চাওয়া যেতে পারে তা তাদের আকল বুদ্ধিতে উপলদ্ধি না হওয়ায় জান্নাতিরা তখন জান্নাতে আল্লাহ তায়ালার নিকট কি কি চাওয়া যায়- সে ব্যাপারে ফতওয়ার জন্য জান্নাতি আলিম-উলামায়ে কেরামদের খুঁজবেন, যেমন দুনিয়ার জিন্দেগিতে জীবন সমস্যার সমাধানে উলামায়ে কিরামদের খোঁজা হয়ে থাকে।
বর্তমান ডিজিটাল যুগ। এই যুগে মানুষ প্রযুক্তির সুফল এবং কুফল নিয়ে দ্বিধা-বিভক্ত। প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে আজ প্রশ্ন দেখা দিয়েছেঃ প্রযুক্তি ব্যবহার কি আদৌ জায়েজ? প্রযুক্তির ব্যবহার সংক্রান্ত এই প্রশ্নের উত্তরের জন্যও সাধারণ মানুষের জন্য উলামায়ে কিরামদের মতামত আজ জরুরী হয়ে দেখা দিয়েছে। নিম্নে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা গেলঃ
তথ্য ও
প্রযুক্তি মানুষের জীবন ও তার উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। মানুষের জীবন
প্রবাহকে বেগবান করেছে। আর ইসলাম মানুষের জন্য যে কোন কল্যাণকর জিনিসের সঠিক
ব্যবহার অনুমোদন করে। তাই তথ্য ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে ইসলামের কোন আপত্তি নেই। তথ্য ও
প্রযুক্তির ভুল ব্যবহার হচ্ছে। কোন জিনিসের ভুল ব্যবহার হ’লে তা নিষিদ্ধ হয়ে যায় না।
বরং ভুল ব্যবহার বন্ধ করতে হয়। এক্ষেত্রে আমাদের আলেম সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের
দায়িত্ব মানুষকে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শেখানো। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তি
অর্থাৎ ইন্টারনেট ব্যবহার করে ইসলামের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তার জবাব
আলেমদের পক্ষ থেকেই আসা উচিত। ইসলামের নামে অসংখ্য নতুন নতুন ফিৎনা, বিভ্রান্ত
মতবাদের প্রতিবাদ ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে প্রচার করার দায়িত্ব আলেম সমাজের উপরই
বর্তায়। সাপ্তাহিক জুম‘আর খুৎবায় প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে কি
করণীয় সে সম্পর্কে আলোচনা করা যরূরী। প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে দুর্বল ঈমানদার
ব্যক্তি যতটা তৎপর, অধিকতর ঈমানের অধিকারী আলেম সমাজ তার চেয়ে
বেশী তৎপর হবেন এটা আমাদের একান্ত কামনা। ইসলামের সঠিক দিক বিশ্ববাসীর নিকট তুলে
ধরার জন্য ইন্টারনেট, টিভি, ইলেক্ট্রনিক ও অন্যান্য
মিডিয়া ব্যবহার করা নাজায়েয বলে ঘোষণা করা ‘মাথা ব্যথা হ’লে মাথা কেটে ফেলার’ নামান্তর।
প্রযুক্তির
সহজ ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে ইসলাম বিরোধীরা অনলাইনে নির্জলা মিথ্যা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, নগ্নতাকে
উসকে দিচ্ছে। নাস্তিকতার প্রচার ও ধর্মে অযথা অবিশ্বাস তৈরি করছে। আধুনিক
জাহেলিয়াতের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ইসলামের প্রকৃত বার্তা মানুষের কাছে তুলে
ধরার দায়িত্ব আলেম সমাজের। মানবজীবনের জন্য অতীব যরূরী আমলগুলো তথ্যসূত্রসহ তুলে
ধরার মাধ্যমে ইসলামের বাস্তব অনুশীলনের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করা যেতে পারে।
আরবের
আলেমরা ফেসবুক ব্যবহার করে ইসলামের দাওয়াতের ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। লাখ
লাখ মানুষ তাদের পেইজে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে লেখা প্রবন্ধগুলো পাঠ করছে।
আল্লাহ বলেন . ٧- إِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَى الْأَرْضِ زِينَةً لَّهَا لِنَبْلُوَهُمْ أَيُّهُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ◯
ওয়ামা
তাওফীকী ইল্লা বিল্লাহ।– আ--মীন! ইয়া রব্বাল আ'লামীন।
[1]. মুসলিম হা/৮২; মিশকাত হা/৫৬৯।
[2]. বুখারী হা/৩৪৬১; মিশকাত হা/১৯৮।
[3]. তিরমিযী
হা/৩৮৯৫; মিশকাত হা/৩২৫২, হাদীছ
ছহীহ।
তথ্য ও প্রযুক্তি মানুষের জীবন ও তার উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। মানুষের জীবন প্রবাহকে বেগবান করেছে। আর ইসলাম মানুষের জন্য যে কোন কল্যাণকর জিনিসের সঠিক ব্যবহার অনুমোদন করে। তাই তথ্য ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে ইসলামের কোন আপত্তি নেই। তথ্য ও প্রযুক্তির ভুল ব্যবহার হচ্ছে। কোন জিনিসের ভুল ব্যবহার হ’লে তা নিষিদ্ধ হয়ে যায় না। বরং ভুল ব্যবহার বন্ধ করতে হয়। এক্ষেত্রে আমাদের আলেম সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের দায়িত্ব মানুষকে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শেখানো। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তি অর্থাৎ ইন্টারনেট ব্যবহার করে ইসলামের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তার জবাব আলেমদের পক্ষ থেকেই আসা উচিত। ইসলামের নামে অসংখ্য নতুন নতুন ফিৎনা, বিভ্রান্ত মতবাদের প্রতিবাদ ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে প্রচার করার দায়িত্ব আলেম সমাজের উপরই বর্তায়। সাপ্তাহিক জুম‘আর খুৎবায় প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে কি করণীয় সে সম্পর্কে আলোচনা করা যরূরী। প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে দুর্বল ঈমানদার ব্যক্তি যতটা তৎপর, অধিকতর ঈমানের অধিকারী আলেম সমাজ তার চেয়ে বেশী তৎপর হবেন এটা আমাদের একান্ত কামনা। ইসলামের সঠিক দিক বিশ্ববাসীর নিকট তুলে ধরার জন্য ইন্টারনেট, টিভি, ইলেক্ট্রনিক ও অন্যান্য মিডিয়া ব্যবহার করা নাজায়েয বলে ঘোষণা করা ‘মাথা ব্যথা হ’লে মাথা কেটে ফেলার’ নামান্তর।
প্রযুক্তির সহজ ব্যবহারের
সুযোগ নিয়ে ইসলাম বিরোধীরা অনলাইনে নির্জলা মিথ্যা ছড়িয়ে দিচ্ছে। অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, নগ্নতাকে
উসকে দিচ্ছে। নাস্তিকতার প্রচার ও ধর্মে অযথা অবিশ্বাস তৈরি করছে। আধুনিক
জাহেলিয়াতের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ইসলামের প্রকৃত বার্তা মানুষের কাছে তুলে
ধরার দায়িত্ব আলেম সমাজের। মানবজীবনের জন্য অতীব যরূরী আমলগুলো তথ্যসূত্রসহ তুলে
ধরার মাধ্যমে ইসলামের বাস্তব অনুশীলনের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করা যেতে পারে।
আরবের আলেমরা ফেসবুক ব্যবহার
করে ইসলামের দাওয়াতের ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। লাখ লাখ মানুষ তাদের পেইজে
ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে লেখা প্রবন্ধগুলো পাঠ করছে।
প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার :
মানবতার
কল্যাণে বিজ্ঞানের অবদান অনস্বীকার্য। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে মানুষের
জীবনযাপনকে সহজ ও সাবলীল করেছে। এর সদ্ব্যবহারে সুফল এবং অসদ্ব্যবহারে কুফল। এ
ক্ষেত্রে জরুরী হচ্ছেঃ আবিস্কৃত, প্রচলিত বিজ্ঞান-প্রযুক্তিকে কল্যাণ বা উপকারমুখীকরণ। এ জন্য
প্রয়োজন কল্যাণকর জ্ঞান চর্চা যাকে পবিত্র হাদিসে বলা হয়েছে ঈলমান নাফিয়ান-উপকারী
জ্ঞান যদ্বারা মানব কল্যাণ সাধিত হয়। তাহলে আমরা সহজে আধুনিক প্রযুক্তির
সদ্ব্যবহার করতে পারবে ইনশা আল্লাহ।
প্রযুক্তির সুফল
মোবাইল : মোবাইল
বিহীন দেশ-রাষ্ট্র, জেলা-উপজেলা তো দূরের কথা মোবাইল নেই-এমন লোক পৃথিবীতো খুব
কমই পাওয়া যাবে। অন্ধ ফকির-মিসকিনদের হাতেও এখন মোবাইল ফোন অতি নিত্য প্রয়োজনীয়
বস্তুতে পরিণত হয়েছে।
প্রযুক্তির
সবচেয়ে বহুল প্রচলিত উপাদান হ’ল মোবাইল ফোন যার অপর নাম সেল ফেল। পারস্পরিক
যোগাযোগ তা সুদূর হোক বা অতি কাছের হোক সব দূরত্বকে জয় করেছে যে প্রযুক্তি তা
হলো মোবাইল প্রযুক্তি। যা মানুষের মাঝে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দূরত্বকে জয় করেছে।
প্রযুক্তির কুফল
মোবাইলের
মাধ্যমে এখন জরুরী কথা বলা পাশাপাশি অপসংস্কৃতির প্রচার, নগ্নতাকে উসকে
দেয়া, ব্লাকমেইলিং, অশ্লীল
কার্যকলাপ যেন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মোবাইল
সিম কোম্পানীগুলোর লোভনীয় অফার ও এসবের অপব্যবহার তরুণ সমাজকে আরও ভয়াবহ বিপদের
দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ইসলামের আলোকে প্রযুক্তির
অপব্যবহারের পরিণতিঃ
মোবাইল ফোনঃ
ভাল-মন্দ
উভয় কথার সংরক্ষণকারী ফিরিশ্তার নামঃ কিরামান কাতিবীন যা মোবাইলে অবাধে চর্চা
হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরঅআনে মহান আল্লাহ বলেনঃمَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ- ‘মানুষ যে
কথাই উচ্চারণ করে, তার জন্য তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে’ (ক্বাফ ৫০/১৮)।
ফেইস বুক
অশ্লীলতা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, .
ফেইসবুকের সুফল
আমার একটি
কথা হলেও তা প্রচার করে দাও (আল হাদিস)
মুহুর্তের
মধ্যে বিশ্বব্যাপী পবিত্র কুরআন এবং হাদিসসহ ব্যক্তিগত সুসংবাদ, শোক সংবাদসহ আর্থ-সামাজিক-রাষ্ট্রীয়
সংবাদ প্রচারের সহজ মাধ্যম ফেইস বুক।
ফেইসবুকের কুফল
সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর অন্যতম ফেইস বুক। এর অপব্যবহারে এটি নারী-পুরুষের অবৈধ যোগাযোগ, নারী-পুরুষের আপত্তিকর ছবি বা
ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। যা আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক
অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করছে।
ইন্টারনেট প্রযুক্তির সুফল
এটা বিশ্বকে একই নেটওয়ার্কের মধ্যে এনেছে।
ইন্টারনেট
তথ্য প্রযুক্তিতে রাতারাতি বিপ্লব সাধন করেছে। ইন্টারনেট নদীর মত ভূমিকায় অবতীর্ণ।
নদীর এক কূল গড়ে অপর কূল যেমন ভাঙ্গে তেমনি ইন্টারনেটে যেমন রয়েছে জ্ঞান-বিজ্ঞানের
অচিন্তনীয় উৎস তেমন রয়েছে ব্যক্তি সত্বা বিধ্বংসী নানান উপকরণাদি। ফুলে যেমন মধুও
থাকে বিষও থাকে তেমনি ইন্টারনেটে উপকারী জ্ঞান যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে ক্ষতিকর
জ্ঞানও। এ ক্ষেত্রে জরুরী মানব সত্বার শ্রেষ্ঠ সম্পদ বিবেক-বুদ্ধিকে ইন্টারনেট প্রযুক্তিতে
ব্যবহার করে এ প্রযুক্তি থেকে মধু রূপ সর্বপ্রকার কল্যাণ বের করে আনা । এক্ষেত্রে
আমাদেরকে হতে হবে মৌমাছি সদৃশ যে ফুল থেকে কেবল কল্যাণকর বস্তু মধুই আহরণ করে
থাকে। দুঃখের বিষয়, আমাদের এক্ষেত্রে আচরণ হচ্ছে ভ্রমরার মতো বিষ আহরণের মতই।
সুতরাং, ইন্টারনেট থেকে সুফল আহরণের জন্য আমাদের অর্জিত জ্ঞান-বুদ্বি-বিবেকসম্মত
উপকারী জ্ঞানের সর্বাধিক প্রয়োগ জরুরী।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন অশ্লীল ভিডিও প্রচারের ফলে অশ্লীলতার ব্যাপক ছড়াছড়ি হচ্ছে। ফলে নারীর শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ, ইভটিজিং, এসিড সন্ত্রাস, হত্যা-গুম ইত্যাদি বৃদ্ধি পেয়েছে।
কম্পিউটার : বর্তমান বিশ্বে কম্পিউটার এমন এক প্রযুক্তির নাম পৃথিবীর সবকিছুতেই যার ছোঁয়া অপরিহার্য। এর অবদান অনস্বীকার্য। পৃথিবীর সব যন্ত্রই বর্তমানে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত তথা কম্পিউটারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাহায্যে পরিচালিত। লেখাপড়া, সাহিত্যচর্চা, সাহিত্য-কলা সবকিছুতেই কম্পিউটার প্রসারিত করেছে তার সাহায্যের হাত। উন্নত বিশ্বে কৃষি, বাণিজ্য, চাকরি থেকে নিয়ে হেন কোন পেশা নেই যাতে কম্পিউটারের সাহায্য নেয়া হয় না। এই মাধ্যমকে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে অনেক সহজে ও সফলতার সাহায্যে ব্যবহার করা যেতে পারে। কম্পিউটারের মাধ্যমে আজ কুরআন, হাদীছ, বিভিন্ন ইসলামী রেফারেন্স গ্রন্থ পড়া ও সংরক্ষণ করা, ভিডিও দেখা, অডিও শোনা প্রভৃতি অনেক সহজতর হয়েছে। আগে কুরআনের আয়াত বা হাদীছের ইবারত সংগ্রহ করা অনেক কঠিন ছিল। আজ তা অনেক সহজতর হয়েছে। কুরআন-হাদীস অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সফটওয়্যার রয়েছে। এগুলোতে সহজেই একটি সূরাহ থেকে অন্য সূরাহতে গমন করা যায়। মুহুর্তের মধ্যে বিভিন্ন শব্দ দিয়ে বিভিন্ন আয়াত বের করা যায় । হাদীসের ক্ষেত্রেও এরকম সফটওয়্যার বিদ্যমান। বাংলা ভাষায়ও কুরআন-হাদীসের অনেক ওয়েব, সফটওয়্যার, অ্যাপ বিদ্যমান। এগুলোর যথাযথ প্রচার ও সহযোগিতায় এগিয়ে আসা আমাদের কর্তব্য (তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট)।
উল্লেখ্য, কুরআন, হাদীছ ও ইসলামী রেফারেন্স-এর ক্ষেত্রে ‘মাকতাবা শামেলা’ সফটওয়্যার অসাধারণ। এতে বিভিন্ন বিষয়ের হাজার হাজার গ্রন্থ ও পত্র-পত্রিকা মওজুদ রয়েছে। আধুনিক যুগে ইসলামী গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এর সঠিক ব্যবহার জানা আবশ্যক (প্রাগুক্ত)।
ওয়েব মিডিয়া : ওয়েব মিডিয়ায় মুসলমানদের অবস্থান খুব দুর্বল। বিশেষ করে নৈতিকতার চর্চা এখানে খুবই নগণ্য। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা যায়, অমুসলিম ও ইহুদীদের সাইট মুসলমানদের সাইটের তুলনায় ১২০০ গুণ বেশী। অশ্লীলতা ও নীল ছবির সয়লাব এত বেশী যে অল্প কিছু মুসলিম সাইটের অবস্থান সে তুলনায় অপ্রতুল। বাংলা ভাষায়ও ইসলামের উপর ওয়েবসাইটের সংখ্যা অতি নগণ্য। যেগুলো রয়েছে তার মানও অনেক কম। অনেক ওয়েবসাইট নিয়মিত আপডেট হয় না। ওয়েব মিডিয়ার অন্যতম উপাদান অনলাইন নিউজ-এর ক্ষেত্রে ইসলামী ভাবধারাসম্পন্ন পোর্টাল এর অত্যধিক অভাব পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া ইসলাম বিষয়ে বিভিন্ন ব্লগ, ওয়েবসাইট প্রভৃতিরও সংখ্যা অনেক কম। এগুলোর প্রচার-প্রসারে আরো অনেক ওয়েবসাইট, ব্লগ গঠনে এগিয়ে আসার পাশাপাশি নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে (তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট)।
জ্ঞাপন : বর্তমানে সব কিছুর বিজ্ঞাপনেই নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। কোন কোন বিজ্ঞাপনে অশ্লীল ছবিও ব্যবহার করা হয়। রাস্তায় বা বাজারে এসব বিলবোর্ডের ব্যবহার আমাদের ইসলামী সংস্কৃতির বিরোধী। এর বিরুদ্ধে আমাদের তেমন পদক্ষেপ নেই।
এক্ষেত্রে ইসলামী কথা সম্বলিত বিলবোর্ড ভাড়া করে বা নিজের বাসাবাড়ীতে অল্প খরচেই স্থাপন করা যেতে পারে। প্রিন্ট মিডিয়াতেও বিজ্ঞাপন হিসাবে ইসলামী মূলনীতির কথাগুলো প্রকাশ করা যেতে পারে। রাস্তার পাশে বা মোড়ে মোড়ে ইসলামের সুমহান বাণী সম্বলিত বিজ্ঞাপন স্থাপন করলে তা দাওয়াতের ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রাখতে পারে। সারাদেশে অসংখ্য মাদরাসা রাস্তার পাশে বিদ্যমান। এগুলোর পাশের রাস্তার দু’পাশে বিভিন্ন ইসলামী বাণীর ব্যানার, বিলবোর্ড স্থাপন করা যেতে পারে। ‘মুসলিম ও কুফরীর মাঝে পার্থক্য হ’ল ছালাত’,[1] ‘একটি আয়াত হ’লেও আমার পক্ষ থেকে প্রচার কর’,[2] ‘মুমিনদের মধ্যেই সেই উত্তম যে স্ত্রীর কাছে উত্তম’[3] প্রভৃতি বাণী সম্বলিত বিলবোর্ড রাস্তায় স্থাপন করা যায়। এছাড়া রাস্তায় রাস্তায় সফরের দো‘আ ও সফরকে উৎসাহিত করার আয়াতগুলো বিলবোর্ডে লেখা যেতে পারে। অশ্লীলতার পরিণাম সম্পর্কিত আয়াত ও হাদীছগুলো উল্লেখ করে বাজারে বিলবোর্ড স্থাপন করা যায়। এছাড়া স্টীকার, লিফলেট প্রভৃতি মসজিদের দেয়ালে, বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে প্রভৃতিতে স্থাপন করে দ্বীনী দাওয়াত প্রচার করা যেতে পারে (তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট)।
ই-মেইল : ই-মেইলের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের কাছে ইসলামের বাণী মুহূর্তেই পৌঁছানো যায়। যত বড় লেখাই হোক না কেন; তা লিখে মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া যায়। ই-মেইল-এ গ্রুপ সৃষ্টি করার মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে গ্রুপ মেসেজ আদান-প্রদান করা যায়। জিমেইলের ফাইল হোস্টিং সার্ভিস গুগল ড্রাইভের মাধ্যমে ফাইল সংরক্ষণ করা যায়। এমনকি বিভিন্ন ডকুমেন্টকে Ocr করে word ফরম্যাটে রূপ দেয়া যায়। (তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট)
ফেসবুক সহ অন্যান্য স্যোশাল মিডিয়া : স্যোশাল মিডিয়াগুলো যদিও ওয়েব মিডিয়ার অন্তর্ভুক্ত, তবুও এর গুরুত্ব ও পরিব্যাপ্তি অনেক হওয়ায় তার আলাদা আলোচনা গুরুত্বের দাবী রাখে। বর্তমানে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত এ মিডিয়া আসক্ত। এ মিডিয়ার মাধ্যমে ইসলাম প্রচার অনেক সহজ এবং অনেক দ্রুত গতিতে তা ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এ মিডিয়ার সঠিক ব্যবহারের উদাহরণ অপব্যবহারের তুলনায় অনেক কম। ফেসবুকে লেখা, ছবি, ভিডিও, নোট (বড় লেখা) প্রকাশ করে দ্বীনে হকের দাওয়াতের কাজ করা যায়। এক্ষেত্রে দাওয়াতের পাশাপাশি অনৈসলামী মতবাদকে খন্ডনও করা যায়। তবে ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে সৌজন্য, শালীনতা, মাধুর্যতা বজায় রাখা আবশ্যক। সবসময় বিরোধিতামূলক বা খন্ডনমূলক প্রচার নয়, বরং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দাওয়াত দেওয়া অনেক বেশী কার্যকর। দাওয়াতের ক্ষেত্রে ইসলামী মূলনীতি অনুসরণ করে সঠিক তথ্য-প্রমাণসহ আলোচনা দাওয়াতকে বেগবান করবে বলে আশা করা যায়। এছাড়াও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া যেমন টুইটার, বেশতো, উম্মাহল্যান্ড, লিংকডইন, গুগল প্লাস, ইন্সট্রাগ্রামেও ইসলাম বিষয় লেখা, ছবি পোস্ট করা সময়ের দাবী। (প্রাগুক্ত)
ইউটিউব : মানব মনে দাগ কাটার ক্ষেত্রে দেখা ও শোনার প্রভাব বেশী। এজন্যই মাল্টিমিডিয়ার প্রয়োগ অনেক বেশী প্রয়োজন। ভিডিও প্রকাশ করে তা প্রচার করলে দাওয়াতের প্রসার অনেক বৃদ্ধি পায়। কুরআনের বিভিন্ন আয়াত, তাফসীর, বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, ইসলামী হামদ, না‘ত প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এসব রেকর্ড করে ইউটিউব, ডেইলীমোশন, ভিমিও প্রভৃতি সাইটে আপলোড করে প্রচার করা যেতে পারে। বড় বড় ভিডিওর তুলনায় ছোট ছোট প্রশ্নোত্তর বা ভিডিওর প্রভাব অনেক বেশী। শিশুদের আকর্ষণ বৃদ্ধির জন্য অনুমোদনযোগ্য কার্টুনও প্রকাশ করা যেতে পারে। এছাড়া শিশুদের জন্য ছড়া, বিভিন্ন ইসলামী গল্প কথকের মাধ্যমে ভিডিও করে প্রকাশ করলে তা শিশুদের মনোজগতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে(তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট)। ।
মোবাইল : মোবাইল এখন শুধু দূর-আলাপনী যন্ত্রই নয়, এটি এখন মিনি কম্পিউটারের রূপ ধারণ করেছে। ফলে এর বহুমুখী ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। মোবাইল সঠিকভাবে ব্যবহার করে এটিকে দাওয়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করা যায়। বিশেষ করে স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে ইসলামের অনেক বিষয় জানা, মেনে চলা সুবিধাজনক (তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট)। ।
স্মার্টফোন
স্মার্টফোনের মাধ্যমে বর্তমানে অনেক সহজেই কুরআন-হাদীছের বাণীগুলো পড়া ও সার্চ দেয়ার সুযোগ রয়েছে। কুরআন ও হাদীছের এই সংকলনগুলো বাংলায় সহজলভ্য। এখন সহজেই সালাতের সময়সূচী, সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত প্রভৃতি জানা যায়। স্মার্টফোনের মাধ্যমে ইসলামী লেকচার, গান, টিউটোরিয়াল-এর অডিও-ভিডিও শোনা ও দেখা যায়। একটি মাত্র ছোট্ট মেমোরীতে অসংখ্য বক্তব্য ধারণ করা যায়। সেই সাথে অতি সহজেই তা অন্যের কাছে পৌঁছিয়ে প্রচার করা যায়(তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট)। ।
অ্যান্ড্রয়েড ফোন
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের অ্যাপগুলোর মাধ্যমে ইসলাম চর্চা অনেক সহজ হয়েছে। ইসলাম বিষয়ক অ্যাপগুলোতে কুরআনের বিভিন্ন অনুবাদ, হাদীছের গ্রন্থ, ফাতাওয়ার কিতাব, সালাতের সময়সূচী, দৈনন্দিন জীবনের দো‘আ, তাফসীর, মাসআলা-মাসায়েল প্রভৃতি বিষয় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বাংলা ভাষায় হিসনুল মুসলিম অ্যাপ, হাদীসবিডি অ্যাপ, আই হাদীস, বাংলা কুরআন প্রো প্রভৃতি অন্যতম। এসবের মাধ্যমে ইসলামী জ্ঞানার্জন করা সহজ হয়েছে। বিভিন্ন কাজের ফাঁকে, ভ্রমণে ও অবসর সময়ে এক ক্লিকেই এসব পড়া যায়। শুধু পড়াই নয়, অডিও ডাউনলোডের মাধ্যমে বিখ্যাত ক্বারীদের তেলাওয়াত শুনা এখন অনেক সহজ হয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মাধ্যমে পিডিএফ, ইপাব, মোবি প্রভৃতি বিভিন্ন ফরম্যাটের পিডিএফ পড়া যায়। ইসলামের অসংখ্য বিষয়ে বর্তমানে পিডিএফ বিদ্যমান। হাতের কাছেই এসব রয়েছে, অথচ এসব উপকারী বিষয়কে পরিত্যাগ করে আমরা শয়তানী ওয়াসওয়াসায় পড়ে অনৈসলামিক বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছি। ইসলামী বিষয়গুলো অন্যের মাঝে প্রচলনের জন্যে আমাদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। এসব ধর্মীয় বই, অডিও, ভিডিও লেকচারগুলো অন্যের মাঝে বিভিন্ন মাধ্যমে (shareit, bluetooth, anyshare) প্রচার করা যায়। এসব সিডি বা ডিভিডিতে কপি করেও প্রচার করা যায়।
(তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট)। ।
এক জরিপে
জানা যায়, বিপুল
সংখ্যক স্কুল শিক্ষার্থীরা পর্ণোগ্রাফীর সাথে জড়িত। এছাড়া স্মার্ট ফোনের ওয়াইফাই
শেয়ারিং (shareit, anyshare etc.) ও ব্লুটুথের (Bluetooth) মাধ্যমে
এক মোবাইল থেকে অন্য মোবাইলে সহজেই তা ছড়িয়ে যাচ্ছে। পরিবারের প্রধানদের যথাযথ
মনিটরিং-এর অভাবে
এগুলো আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রেডিও : পরিবারের বিনোদনের মাধ্যম
হিসাবে বহু বছর থেকে রেডিও ও টেলিভিশন স্থান দখল করে রেখেছে। মাঝে রেডিওর অবস্থান
নড়বড়ে হয়ে গেলেও এফ.এম রেডিও-এর মাধ্যমে এটির গতি
ত্বরান্বিত হয়েছে। বর্তমানে এই মাধ্যমে ইসলামিক কোন কিছুই প্রচার হয় না। এটা
অনৈসলামী কার্যকলাপের অন্যতম হাতিয়ার। কোন প্রকার তার বা সেট ছাড়া মোবাইলে চালু
করা যায় বলে সমাজে এর প্রভাব অনেক বেশী। এগুলোর মাধ্যমে আমাদের ভাষারও বিকৃতি
হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।বাংলা+ইংরেজীর সংমিশ্রনে রক্ত দিয়ে গড়া বাংলা ভাষা
এখন বাংরেজী ভাষায় পরিণত হওয়ায় বেশ কয়েক বছর আগে এ ধরণের প্রবণতা রোধ কল্পে রীট
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা হাইকোর্ট থেকে রীটের অনুকূলে ডিক্রি জারী করা হয়েছিল।
এতদ্বসত্ত্বেও অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি বল্লে চলে।
টেলিভিশন : এক সময়
টেলিভিশন বাড়ীর চার দেয়ালের মধ্যে স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সচিত্র
খবরা-খবরের তাৎক্ষণিক মাধ্যম হচ্ছে টেলিভিশন। দেশ ও জাতি বিনির্মাণে টেলিভিশনের
ভূমিকা অনন্য। অপরাপর মিডিয়ার মতো এটিও অপসংস্কৃতির ভাইরাসে আক্রান্ত। বিশেষ করে
বিদেশী ধারাবাহিক সিরিয়াল নাটক, থিয়েটারের মাধ্যমে অপসংস্কৃতির সয়লাবে অনেক
বুনিয়াদী পরিবার আজ ছন্নছাড়া হয়ে পড়ছে। এতে জাতীয় অপরাধমূলক কর্মকান্ড দিন দিন
বেড়ে চলেছে।
এই
মাধ্যমে ভালো কোন ইসলামিক চ্যানেল না থাকায় এগুলোর প্রভাব আরো বেশী ত্বরান্বিত
হচ্ছে।
প্রিন্ট
মিডিয়া: এক সময় দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক এবং
মাসিক পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন রাষ্ট্রের ৫ম স্তম্ভ হিসাবে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতো। এ জগতও বর্তমানে নানান অপসংস্কৃতির যাঁতাকলে
নিপতিত।
কোরঅআন-সুন্নাহর
আলোকে আত্ম সংযম, সুস্থ সংকৃতির বিকাশের মাধ্যমে প্রিন্ট মিডিয়া জাতিকে উপহার
দিতে পারে সুনাগরিক। কিন্তু, ইসলাম বিষয়ক তেমন কিছু প্রচার
হয় না বললেই চলে। বরং পত্রিকা খুললেই অর্ধনগ্ন নারী-পুরুষের ছবিতে এতটাই পূর্ণ
থাকে যে, এখন
সংবাদপত্র পড়ার জো নেই।
বিলবোর্ড
সাইনবোর্ডঃ
বাজার-ঘাট, রাস্তার
আশেপাশে বিলবোর্ডও সাইনবোর্ডেও অনৈসলামিক বিষয়গুলোর প্রাধান্য চোখে পড়ে।
প্রযুক্তির
সঠিক ব্যবহারের গুরুত্ব :
আমাদের
দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহার সর্বত্র। এর অবদানকে যেমন অস্বীকার করা যাবে না, তেমনি
এটার অপব্যবহারের কথা বলে এটাকে পরিত্যাগ করারও কোন উপায় নেই। বরং আমাদেরকে এর
সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বস্ত্ততঃ প্রযুক্তির
যথার্থ ব্যবহারই আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে।
সব নবী-রাসূলই তাঁদের যুগে তৎকালীন
প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়েছিলেন এবং মহান সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা আল্লাহ তা‘আলার বিধান প্রচার-প্রসার করেছেন। উম্মতকে
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়েছেন। মহান আল্লাহর বাণী মানুষের
কাছে পৌঁছিয়েছেন। সবুজ গ্রহ পৃথিবীর প্রথম নবী এবং প্রথম মানব হযরত আবুল বাশার আদম
আলাইহিমুস সালাম পৃথবীতে এসেই সর্বপ্রথম যে প্রযুক্তির প্রচলন করেছিলেন তা ছিল
বস্ত্র প্রযুক্তি (Textile Technology) যার সূচনা লতা-পাতা। অতঃপর
কৃষি প্রযুক্তি যদ্বারা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ওষুধ-পথ্য ইত্যাদির সংস্থান করা
হয়েছিল। জ্ঞান চর্চার আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে হযরত ইদরিস আলাইহিমুস সালামের মাধ্যমে।
তিনি দ্বীনী দরসের পাশাপাশি অংক-গণিতও শিক্ষা দিতেন মর্মে জানা যায়। নবুয়তের
দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত দরস (শিক্ষা) দেয়ার কারণে তাঁর মূল নাম হযরত আখমুখ (Akhmukh) ইবনে মাতুশলখ (Matushlokh এর স্থলে ইদরিস (দরসদাতা) হিসাবে
খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। বাদশাহ সুলায়মান আলাইহিমুস সালাম মুজিযার মাধ্যমে মহাকাশ
প্রযুক্তির প্রয়োগ করে সাবার রাণী বিলকিসের সিংহাসন চোখের পলকে নিয়ে এসেছিলেন।
সাইয়েদুল মুরসালিন, আশরাফুল আম্বিয়া হযরত আহামাদ মুস্তবা, মুহাম্মাদ মুস্তফা
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেরা মুজিযা ছিল রাতের এক কিয়দংশের মধ্যে সাত
আসমান মিরাজুন্নবীর মাধ্যমে পরিভ্রমণ যা মহাকাশ বিজ্ঞানীদের আজও হতভম্ভ করে দেয়। কারণ,
বিজ্ঞানীদের মতে আইনস্টাইনের এমসি থিওরীমতে আলোর গতির চাইতে দ্রুতগতি এ জগতে
দ্বিতীয়টি আর নেই। দ্বিতীয় মুজেযা চাঁদ-কে রাতারাতি আঙ্গুলের ইশারায়
দ্বিখন্ডিতকরণ-যা সচক্ষে দেখেছিলেন অ্যাপোলো-১১এর নভেচারী নীল আর্মস্ট্রং
১৯৬৯ সালের জুলাই মাসে। সম্ভবতঃ পৃথিবীতে সর্বপ্রথম Open Heart Surgery সম্পন্ন হয়েছিল অন্ততঃ চার
চার বার মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের। ৪তম সিনা চাক হয়েছিল
মিরাজুন্নবী সম্পন্নের পূর্বক্ষণে।
মূসা (আঃ)-এর সময় জাদুর প্রভাব ছিল
অধিক। মূসা (আঃ) সে যুগের প্রেক্ষাপটে আল্লাহ
প্রদত্ত মুজেযা ব্যবহার করে ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের নিকট দ্বীনের দাওয়াত
দিয়েছেন। ফলে অসংখ্য জাদুকর আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিল। ঈসা (আঃ)-এর সময়ে চিকিৎসাবিদ্যার
প্রচলন ছিল বেশী। তিনি তাই আল্লাহ প্রদত্ত চিকিৎসাবিদ্যার ব্যবহারের মাধ্যমে
দাওয়াত দিয়েছেন। দুরারোগ্য কুষ্ঠরোগীকে নিরাময়সহ মৃতকে আল্লাহর হুকুমে জীবিত করে
দেখানোর মাধ্যমে দাওয়াতী কাজ করেছেন (মায়েদাহ ৫/১১০)।
প্রযুক্তির
সঠিক ব্যবহারের উপায় ও মাধ্যম :
বিজ্ঞানের
উন্নতির এই যুগে দাওয়াতের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। আধুনিক
প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প সময়ে, অল্প কষ্টে অসংখ্য মানুষের কাছে দ্বীনের
দাওয়াত দেওয়া যায়। আধুনিক মাধ্যমগুলোতে ইসলামের সহীহ আক্বীদার মানুষ কম আসায়
এক্ষেত্রে সুযোগ নিচ্ছে বিভিন্ন ভ্রান্ত দল ও গোষ্ঠী। তাদের থেকে তরুণ প্রজন্মকে
বাঁচাতে আধুনিক মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে সঠিক ইসলামকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে।
আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যমকে কিভাবে সঠিক পথে পরিচালনা করা যায় এবং কিভাবে
ইসলাম প্রচারে ব্যবহার করা যায় তা নিচে উল্লেখ করা হ’ল।-
টেলিভিশন
মিডিয়া : ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার একক হ’ল পরিবার। সেই পরিবারের
অন্যতম বিনোদন মাধ্যম হ’ল টেলিভিশন। টেলিভিশনের মাধ্যমে ইসলাম
প্রচারের গুরুত্ব অপরিসীম। এই মাধ্যমের অপব্যবহারগুলো সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি
করার পাশাপাশি একে ইসলাম প্রচারের মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করতে হবে। ইসলামী বিভিন্ন
অনুষ্ঠান বিভিন্ন চ্যানেলে প্রকাশ করার ব্যবস্থা করতে ইসলামী আলিম-উলামা-বুজর্গানে
দ্বীনদের ইত্তেহাদ-ইত্তেফাকের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে তা সহজ হবে।
রেডিও : কম খরচে অল্প সীমানায় (range) কোন
তথ্য, তত্ত্ব, উপাত্ত,আদর্শ, মতবাদ সম্প্রচার করতে চাইলে কমিউনিটি রেডিও অনেক
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ ব্যাপারে মুসলিম বিশেষজ্ঞদের ব্যক্তিগত বা
সামষ্টিক উদ্যোগই পারে এ রেডিও প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্বীন ইসলাম প্রচার করতে।
প্রিন্ট
মিডিয়া : সমাজের পরিবর্তনে ও সমাজে ভালো কিছু
প্রচলনের ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা স্থায়ী ভূমিকা রাখতে পারে প্রিন্ট মিডিয়া।
ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি লালনকারী এবং ইসলামের প্রতি সহানুভূতিশীল দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক
বার্ষিক প্রকাশনা জাগতিক অন্যান্য প্রকাশনার তুলনা নিতান্তই অপ্রতুল বলা যায়।
বললেই চলে। বিজাতীয় মতবাদ মুমিন-মুসলমানের ঈমান-আকিদায় দ্রুত প্রবেশ সম্ভব হচ্ছে
যা সত্যিই দুঃখজনক। উল্লেখ্য, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
বিদায় হজ্বের ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষিতঃ আমার একটি কথা হলেও তোমরা পৌঁছে দিবে-এই
আহবান আজ মুহুর্তের মধ্যে ফেইস-বুক, ই-মেইল, গুগল, ইউটিউবে ভাইরাল করে বিশ্বব্যাপী
প্রচার অতি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সুযোগ আমাদের হাতছাড়া করা উচিত নয়।
তাছাড়া পর্ণোগ্রাফী মুক্ত ইন্টারনেট প্রযুক্তিকে দ্বীনী-ইসলামীকরণে আমাদের দ্রুত
এগিয়ে আসা জরুরী। ফেইস বুকের আদলে Aich(H)-Book, You Tube এর আদলে i.tube (Islamic Tube),
i.i.net(Islamic Internet) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা ইনশা আল্লাহ
সর্বপ্রকার অপসংস্কৃতি, অশ্লীলতামুক্ত ইসলামী তথ্য প্রযুক্তির বিশ্ব গড়ে
তুলতে পারি। এর জন্য প্রয়োজন ব্যক্তি, সমাজ, এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমন্বিত
ইসলামী উদ্যোগ। উম্মাহর নীতিনির্ধারণী মহল, মেধাবী, বিজ্ঞানমনস্ক এবং দ্বীনদার
বিত্তবান মুসলিমদের এগিয়ে আসতে হবে।
ওয়ামা
তাওফীকী ইল্লাবিল্লাহ।
বি
Comments
Post a Comment